কাগজের মত সহজেই দাউ-দাউ ক'রে জ্ব'লে উঠল—বিশ্রী দুর্গন্ধে ও আগুনের তাপে টেঁকা দায়!
কিন্তু দিলীপ তখনো বন্দুক তুলে স্থির মুখে অটল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
ভৈরব ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বললে, “কেমন, হয়েছে তো?”
—“না। বার কর তোমার সেই মন্ত্র-লেখা পাপিরাস পাতার পুঁথি। সেটাও আগুনে ফেলে দাও।”
কাতর স্বরে ভৈরব বললে, “না, না, তাত্থেকে আমাকে বঞ্চিত কোরো না! দিলীপবাবু, আপনি কি রত্ন নষ্ট করতে চাইছেন জানেন না! সে পুঁথি জ্ঞানের আধার। তেমন পুঁথি পৃথিবীতে আর নেই!”
—“ভৈরব, পোড়াও সেই পুথি!”
—“দিলীপবাবু, আমার কথা শুনুন। পুঁথিখানা পোড়াতে বলবেন না! ও-পুঁথি আমাদের দুজনের সম্পত্তি হয়ে থাক্। ওর সব কথা আপনাকে আমি নিজে শিখিয়ে দেব। তাহ'লে আমরা দুজনে হ'ব বিশ্বজয়ী!”
টেবিলের কোন্ টানায় পুঁথিখানা আছে, দিলীপ তা জানত। সে এগিয়ে গিয়ে সেখানা টেনে বার করলে।
ভৈরব হাউমাউ ক’রে উঠে তার হাত থেকে সেখানা কেড়ে নিতে এল। কিন্তু দিলীপ এক ধাক্কায় তাকে সরিয়ে দিয়ে পুঁথিখানা আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করলে।
পুঁথিখানা যখন পুড়ে একেবারে ছাই হয়ে গেল, দিলীপ ফিরে হাসিমুখে বললে, “ভৈরবচন্দ্র, এখন তুমি হ'লে নির্বিষ সাপের মত। আর আমার এখানে কোনো কাজ নেই—বিদায়!”[১]
- ↑ বিদেশী কাহিনীর অনুসরণে