বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মড়ার মৃত্যু - হেমেন্দ্রকুমার রায়.pdf/৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
ভৈরবের পরিচয়

 —“তোমার বাসায় যে-ভৈরবচন্দ্রের আবির্ভাব হয়েছে, তারি সঙ্গে অবনীর বোনের বিয়ের কথা হচ্ছে যে!”

 —“বটে, তা তো আমি জানতুম না! ভৈরববাবু তাহ'লে একটি ভালো পাত্র, বিয়ের বাজারে তাঁর দাম আছে?”

 অবনী হাসতে হাসতে বললে, “ঘটকরা তো তাই বলছে, কিন্তু প্রতাপ তা স্বীকার করে না।”

 —“কেন?”

 প্রতাপ বললে, “ভৈরবকে আমি কিছু-কিছু চিনি। তার নাম বা স্বভাব কিছুই মিষ্ট নয়।”

 দিলীপ বললে, “ভৈরববাবুর কথা আমি কিছুই জানি না। কিন্তু তাঁর সম্বন্ধে তোমার আপত্তির কারণ কি?”

 —“ভৈরব হচ্ছে ভবঘুরে। তার বয়স তিরিশের বেশী নয়, কিন্তু এই বয়সেই সে মিশর, আরব, পারস্য, চীন আর জাপান প্রভৃতি দেশ ঘুরে এসেছে।”

 —“দেশভ্রমণ কি দোষের বিষয়?”

 —“না। লোকে নানান্ উদ্দেশ্যে দেশ-ভ্রমণ করে। কিন্তু ভৈরব যে কিসের খোঁজে দেশে-দেশে ঘুরে বেড়ায় তা শিবের বাবাও জানেন না। তার দেশ-ভ্রমণের উদ্দেশ্য অত্যন্ত সন্দেহজনক। সে যে-দেশেই গিয়েছে সেইখান থেকেই নানান্ সব সেকেলে জিনিষ সংগ্রহ ক'রে এনেছে। তার মতন একেলে ছেলের অত সেকেলে জিনিষ সংগ্রহ করবার ঝোঁক্ কেন, তারও খবর কেউ রাখে না। এ-সব রহস্য' আমি পছন্দ করি না।”

 দিলীপ সকৌতুকে হেসে উঠে বললে, “তুমি দেখছি অকারণেই ভৈরব