বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মড়ার মৃত্যু - হেমেন্দ্রকুমার রায়.pdf/৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
মড়ার মৃত্যু

বাবুর উপর খাপ্পা হয়েছ! ভৈরবাবুর সেকেলে জিনিষ সংগ্রহ করবার বাতিক থাকতে পারে, কিন্তু তার মধ্যে আমি তো কিছু অন্যায় দেখছি না!”

 প্রতাপ বললে, “তাহ’লে তার স্বভাবের একটু পরিচয় দি, শোনো। নন্দলালকে তুমি চেনো তো, সেও মেডিক্যাল কলেজে পড়ে। এই পরশুদিনই নন্দলালের সঙ্গে ভৈরবের রীতিমত একটা ঠোকাঠুকি হয়ে গেছে!”

 —“কি রকম, কি রকম?”

 —“তোমার মনে আছে বোধ হয়, পরশু সকালে কি-রকম বর্ষা নেমেছিল? সেই সময় টালিগঞ্জের একটা খুব সরু গলির ভিতর দিয়ে ভৈরব কোথায় যাচ্ছিল। পথের ওদিক দিয়ে মাথায় একটা মস্ত-বড় শাক-সব্জীর ঝুড়ী নিয়ে এক বুড়ী আসছিল বাজারের পানে। বদ্‌‌মাইস ভৈরবটা কি করলে জানো? সেই বুড়ী-বেচারীকে এমন এক ধাক্কা মেরে এগিয়ে গেল যে, ঝুড়ী-শুদ্ধ বুড়ী পড়ল গিয়ে পাশের এক খানার ভিতরে মুখ গুঁজ্‌‌ড়ে। দৈবক্রমে নন্দলালও ঠিক সেই সময়েই সেখানে এসে পড়ে। ভৈরবের নিষ্ঠুরতা দেখে নন্দলাল একেবারেই ক্ষেপে গেল। সে তখনি ভৈরবকে রীতিমত উত্তম-মধ্যম দিতে কসুর করলে না। তারপর থেকে ভৈরবের সঙ্গে নন্দলালের কথা বন্ধ হয়েছে। এখন বল দেখি, এর পরেও কি আর ভৈরবের উপরে কারুর শ্রদ্ধা থাকতে পারে? এই লোকের সঙ্গেই অবনী দিতে চায় তার বোনের বিয়ে! আশ্চর্য্য!”

 অবনী অপ্রতিভ স্বরে বললে, “কি করব ভাই, বাবার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমার কি কথা-কওয়া উচিত? ভৈরব নাকি ধনীর ছেলে, তার উপরে গ্রাজুয়েট্! বাবার মতে এমন পাত্র নাকি হাতছাড়া করতে নেই! আমি আজ পাকা-দেখার দিন স্থির করতে এসেছি।”