পাতা:ময়ূখ - রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়.djvu/৮১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।

একাদশ পরিচ্ছেদ

৭৩

তাহাকে দেখিয়া বৈষ্ণবী মালা রাখিয়া কহিল, “আসিলি মা? এত কি বিলম্ব করিতে হয়? তোর জন্য আমার একদণ্ডও শান্তি নাই। মাথার কাপড়টাও টানিয়া দিস্‌ নাই?” যুবতী অবগুণ্ঠনশূন্যা, কিশোরীর ন্যায় তাহার বস্ত্রাঞ্চল কটিদেশে আবদ্ধ; যুবতী লজ্জাশূন্যা; তাহার ন্যায় রূপসী ষোড়শীর এমন লজ্জাহীনতা বঙ্গদেশে তখনও দেখা যাইত না। যুবতী হাসিয়া কহিল, “মাথায় কেন কাপড় দিব মা?” বৈষ্ণবী দীর্ঘনিশ্বাস পরিত্যাগ করিয়া কহিল “তোকে কি বুঝাইব মা? তুই যে পাগল হইয়াছিস্ ভালই হইয়াছে, নহিলে এই রূপের ডালি লইয়া হার্ম্মাদের সহরে তোর অশেষ দুর্গতি হইত। তুই যা, কাপড় ছাড়িয়া ফুল তুলিতে যা।” যুবতী উন্মাদিনী, তাহার কলহাস্য ক্ষুদ্র কুটীর মুখরিত করিল; সে জিজ্ঞাসা করিল, “কেন মা? আমার রূপ কোথা হইতে আসিল? আমি কেন পাগল হইলাম?” বৈষ্ণবী পুনরায় দীর্ঘনিশ্বাস ত্যাগ করিয়া কহিল, “যিনি তোকে দয়া করিয়া পাগল করিয়াছেন তিনিই তোকে এই দেবদুর্লভ রূপরাশি দিয়াছিলেন। কথায় কাজ নাই, আমার জপ শেষ হয় নাই, তুই ফুল তুলিতে যা।”

 যুবতী কুটীরমধ্যে প্রবেশ করিল, ও মুহূর্ত্তমধ্যে একখানি গৈরিকরঞ্জিত বস্ত্র পরিয়া ফুলের সাজি লইয়া চলিয়া গেল। বিনোদিনী পুনরায় তুলসীমঞ্চের সম্মুখে জপ করিতে বসিল। অর্দ্ধদণ্ড পরে পাগলিনী দূর হইতে মা মা রবে চীৎকার করিতে করিতে ছুটিয়া আসিল,