পাতা:মহাত্মা কালীপ্রসন্ন সিংহ.djvu/১৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


>ノe করিয়া ভাঙার পূর্ণ করিয়াছিলেন-সৌন্দর্ঘ্যের স্বষ্টি করিয়া তাহার উপভোগ করিতেন। তাহ দেখিয়া বাঙ্গালী মুগ্ধ হইল। আমাদের দেশেও “বাণিজ্যে লক্ষ্মীর বাস” কথা বিদিত ছিল—চাণক্য বলিয়াছিলেন, “সৰ্ব্বশূন্ত দরিদ্রত" ; কিন্তু সমাঙ্গে বৈস্ত কেবল সেবাব্রত শূদ্রের উপরে স্থান পাইয়াছিল। যাহারা জ্ঞানধানরত ও জ্ঞানধনরক্ষক ছিলেন, সেই সমাজের শীর্ষস্থানীয় ব্রাহ্মণগণ চিরদিনই অর্থকে অনর্থ মনে করিয়া লোকীর্তীতের সন্ধানে পার্থিব সম্পদ ঘৃণায় পরিহার করিয়াছেন। কুরুক্ষেত্রের মহাসমরে ভৗম দ্রোণাচাৰ্য্যকে তিরস্কার করিয়া বলিয়াছিলেন, তিনি ব্রাহ্মণ হইয়া “চণ্ডালের ন্যায় অজ্ঞানান্ধ হইয়া পুত্র ও কলত্রের উপকারার্থ অর্থলালসা নিবন্ধন বিবিধ স্লেচ্ছজাতি ও অন্যান্য প্রাণিগণের প্রাণবিনাশ করিতেছেন।” সমাজের অন্যান্য বর্ণেও ব্রাহ্মণের আদর্শ অমুকুত হইত। রাজদণ্ডপরিচালকগণও যৌবনে দিগ্বিজয়ের পর বিষয়ভোগ করিয়া বাৰ্দ্ধক্যে মুনিবৃত্তি অবলম্বন করিয়া অন্তে যোগে তত্বত্যাগই জীবনের আদর্শ বলিয়া মনে করিতেন। ফলে হিন্দু প্রাকৃতিক শক্তিকে পদানত করিবার চেষ্টা করেন নাই— অর্থের জন্য ব্যগ্র হয়েন নাই-পরমার্থচিন্তায় অর্থের দিকে মন দেন নাই। এই অবস্থার পর যে জাতি সুদূর অজ্ঞাত দেশ হইতে বাণিজ্যতরীতে আসিয়া বহু কষ্ট্রে—বহু লাঞ্ছনা ভোগের পর ভারতে বাণিজ্যধিকার লাভ করিয়া অল্পকালমধ্যে দেশবাসী কর্তৃক দেশের সিংহাসনে প্রতিষ্ঠিত হষ্টয়াছিল, সেই জাতি যখন পাঠান-মোগল-বর্হাট্টার লুণ্ঠনকাতর বাঙ্গালীকে অর্থকরী বিদ্যার সন্ধান দিয়া আপনার সমৃদ্ধিতে সে বিদ্যার সার্থকত দেখাইয়া দিল, তখন বাঙ্গালী সাগ্রহে সেই বিদ্যা শিক্ষা করিতে অগ্রসর হইল। ইংরাজও জাতিবর্ণ-নিৰ্ব্বিশেষে সকলের জন্য বিদ্যামন্দিরের দ্বারমুক্ত করিয়া সকলকে শিক্ষালাভের জন্য আহবান করিলেন।