পাতা:মহাত্মা কালীপ্রসন্ন সিংহ.djvu/৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


• ليرI তখন বঙ্গদেশে তান্ত্রিক মতের বিস্তার—তান্ত্রিক সাধনার সমাদর । চৈতন্য ভগীরথের মত সাধনা করিয়া যে ধৰ্ম্মপ্রবাহে বঙ্গদেশ ধন্য করিয়াছিলেন, তাহার পূর্ববর্তী কবিদিগের রচনায় আমরা দেখিতে পাই, তাহা তান্ত্রিকতার উৎস হইতে উৎসারিত হইয়াছিল। সেই শীর্ণ স্রোতই চৈতন্তের চেষ্টায় কুলপরিপ্লাবিনী স্রোতস্বর্তীতে পরিণত হয় । সে সাধন-প্রণালীর স্বরূপ বুঝিতে বা বুঝাইতে পারি, এমন অভিমান আমাদের নাই। ভবে অনুসন্ধিৎসু পাঠক চৈতন্তের পূর্ববর্তী কবি চণ্ডীদাসের রাগাত্মিক পদে ভাহার পরিচয় পাইবেন এবং পাইয়া, বোধ হয়, সাধক না হইলে আর তাহার জঙ্ক বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করিবেন না। “ব্ৰজগোপীতৰ মহাভারতে নাই, বিষ্ণুপুরাণে পবিত্রভাবে আছে, হরিবংশে প্রথম কিঞ্চিৎ বিলাসিত প্রবেশ করিয়াছে, তারপর ভাগবতে আদিরসের অপেক্ষাকৃত বিস্তার হইয়াছে, শেষ ব্ৰহ্মবৈবৰ্ত্ত পুরাণে তাহার শ্ৰোত বহিয়াছে।” বিষ্ণুপুরাণের গোপীদিগের কৃষ্ণকামনা কামকামনা নহে। কিন্তু ভাগবতকার বিষ্ণুপুরাণকারের অপেক্ষাও প্রগাঢ়তায় ও ভক্তিতত্ত্বের পারদর্শিতায় শ্রেষ্ঠ । পতিই জগতে গ্ৰীজাতির প্রিয়তম। তাই ভক্তির ঐকান্তিকতা বুঝাইবার জন্য ভাগবতকার গোপীদিগের কৃষ্ণকে পতিরূপে পাইবার কামনার কথা বলিয়াছেন। কিন্তু এই ভাবে একটা ইঞ্জিয়-সম্বন্ধ আছে। কৃষ্ণচরিত্রের অভিনব ব্যাখ্যাকার কুশাগ্রবুদ্ধি বঙ্কিমচন্দ্র বলিয়াছেন,—“কাজে কাজেই সেই ইঞ্জিয়-সম্বন্ধ ভাগবতোজ্ঞ ব্লাসবৰ্ণলের ভিতর প্রবেশ করিয়াছে। ভাগবতোক্ত রাস বিষ্ণুপুরাণের ও হরিবংশের রাসের স্থায় কেবল নৃত্যগীত নয়। যে কৈলাসশিখরে তগৰী কপদীর রোষানলে জীভূত, সে বৃন্দাবনে কিশোর রাসবিহারীর পদ্ধাশ্রয়ে পুনর্জীবনাৰ্ধ মূমিত। জামৰ এখানে প্রবেশ করিয়াছেন। পুরাণকারের অভিপ্রায় কাৰ্য্য নয় ;