পাতা:মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত.djvu/১০৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কলিকাতা বাস । סיס ל মহাজনগণের জীবনবৃত্ত পাঠ করিলে দেখা যায় যে, নানা মহৎ ভাবের মধ্যে একটি ভাব প্রধান হইয় তাহাদিগের জীবন পথের নেতা স্বরূপ হয়। র্তাহারা যাহা কিছু বলেন, যাহা কিছু করেন, সেই ভাবটি তন্মধ্যে মধ্য-বিন্দু হইয়া অবস্থিতি করে। “আত্মাতে পরমাত্মার দর্শন” উপনিষদকারদিগের ইহাই প্রধান ভাব। “বিশ্বব্যাপী মৈত্রী,” বুদ্ধদেবের ইহাই প্রধান ভাব। "আপনাকে আপনি জান, সক্রেটিসের ইহাই প্রধান ভাব। “পৃথিবীতে স্বৰ্গরাজ্য” ইসার ইহাই প্রধান ভাব। “একমাত্র ঈশ্বরের পূজা, অপর সকল দেব-পূজার প্রতিবাদ” মহম্মদের ইহাই প্রধান ভাব, “ধৰ্ম্মচিন্তায় ব্যক্তিগত স্বাধীনতা” লুথরের ইহাই প্রধান ভাব। "ভক্তিতেই মুক্তি' চৈতন্তের ইহাই প্রধান ভাব। “মানবপ্রকৃতির সর্বাঙ্গীন উন্নতি” থিওডোর পার্কারের ইহাই প্রধান ভাব। সেইরূপ রাজা রামমোহন রায়ের প্রধান ভাব “সাৰ্ব্বভৌমিক উপাসনা।” কেবল তাহাই নহে ; সেই সাৰ্ব্বভৌমিক উপাসনার জন্ত সমাজপ্রতিষ্ঠা ; এটিও জগতের পক্ষে নূতন। দ্বিতীয় ভাবটি প্রথম ভাবেরই অন্তভূক্ত। এই ভাবের মৌলিকত্ব ( originality ) কেহ অস্বীকার করিতে পারেন না। সাৰ্ব্বভৌমিকতা ও জাতীয়ভাব। কিন্তু এস্থলে একটি কথা হইতেছে। রামমোহন রায় যদি সম্পূর্ণ অসাম্প্রদায়িক ও সাৰ্ব্বভৌমিক ভাবে সমাজসংস্থাপন করিয়াছিলেন, তবে তিনি সেই সমাজকে হিন্দুভাবে সজ্জিত