পাতা:মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত.djvu/১২১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১১৬ মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত। শূদ্রজাতিতে ২৯২, এবং সৰ্ব্বশুদ্ধ ৫৭৫ জন বিধবা সহমৃতা হইয়৷ ছিল। এই ৫৭৫ জনের মধ্যে ৩৪০ জন কলিকাতা কোট অব সরকিটের সীমার মধ্যে সহমৃতা হইয়াছিল। ইহাতেই বোধ হইতেছে যে, উক্ত সীমার মধ্যে সহমরণের যে সংখ্যা দেওয়া হইয়াছে, তাহাই অনেক পরিমাণে ঠিকৃ। দূরবর্তী স্থানের যে ংখ্যা দেওয়া হইয়াছে, তাহ বাস্তব সংখ্যা অপেক্ষ অনেক কম। এতদ্ভিন্ন এই বিজ্ঞাপনীতে কেবল বাঙ্গালা প্রেসিডেন্সির সহমৃতার সংখ্যা দেওয়া হইয়াছে, অন্তান্ত প্রেসিডেন্সির বিষয় নাই ; থাকিলে জানা যাইত যে, সমুদয় দেশে এক বর্ষকাল মধ্যে কত অধিক সংখ্যক বিধবা নারী পত্যমুগমন করিত। উক্ত বিজ্ঞাপনীতে সহমৃতাদিগের বয়ঃক্রম দেওয়া হইয়াছে। ১৮২৩ সালে ৫৭৫ জনের মধ্যে ১০৯ জন ষাট বৎসরের অধিক বয়স্ক। ২২৬ জন চল্লিশ হইতে ষাট পর্যান্ত। ২০৮ জন কুড়ি হইতে চল্লিশ পৰ্য্যস্ত এবং ৩২ জনের বিংশতি বৎসরেরও অল্প বয়স। দেখা যাইতেছে যে, যুবতী কি বৃদ্ধ এই দুরাচার রাক্ষসের গ্রাস হইতে কাহারও নিস্তার ছিল না। রাজা রামমোহন রায়ের বন্ধু আডাম সাহেব তাহার বিলতের এক বক্তৃতায় বলিয়াছেন যে, “আমি নিশ্চয় করিয়া বলিতেছি যে, ১৭৬৫ খৃষ্টাব্দে বঙ্গদেশে ইংরাজের রাজ্য সংস্থাপন অবধি গবর্ণমেণ্ট ও তাহার কৰ্ম্মচারীদিগের চক্ষুর সম্মুখে প্রতিদিন অন্ততঃ এইরূপ দুইটি হত্যাকাও মুস্পষ্ট দিবালোকে সংঘটিত হুইত, এবং প্রতিবৎসর অন্ততঃ ৫.৬ শত অনাথ রমণীকে এই রূপে নিহত করা হইত।”