পাতা:মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত.djvu/১৩৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৩২ মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত জাগরুক ছিল । সহমরণ, বহুবিবাহ প্রভৃতি কুপ্রথাজনিত অত্যাচার হইতে তাহাদিগকে উদ্ধার করিবার জন্য তাহার প্রাণ নিরস্তর ক্রনন করিত । দুৰ্ব্বলের প্রতি সবলের অত্যা, চার তিনি সহা করিতে পারিতেন না। দরিদ্রের প্রতি ধনীর অত্যাচার এবং স্ত্রীলোকের প্রতি পুরুষের অত্যাচারে তিনি যার পর নাই কাতর হইতেন। তাছার প্রণীত সহমরণ বিষয়ক গ্রন্থের একস্তলে এদেশীয় স্ত্রীলোকদিগের পক্ষ সমর্থন করিয়া সাঙ্গ লিপিয়াছেন, আমরা তাঙ্গ নিয়ে উদ্ধত করিলাম। এদেশীয় রমণীগণের সম্বন্ধে রামমোহন রায়ের উক্তি । “নিবৰ্ত্তক —এই যে কারণ কহিলা তাহা যথার্থ বটে, এবং আমাদিগের সুন্দর রূপে বিদিত আছে ; কিন্তু স্ত্রীলোককে দে পর্য্যন্ত দোঘান্বিত আপনি কছিলেন, তাহ স্বভাবসিদ্ধ নহে অতএব কেবল সন্দেহের নিমিত্তে বদ্বপর্যন্ত করা লোকত ধৰ্ম্মতঃ বিরুদ্ধ হয়, এবং স্ত্রীলোকের প্রতি এইরূপ নানাবিধ দোষোল্লেখ সৰ্ব্বদা করিয়া তাহারদিগকে সকলের নিকট অত্যন্ত হেয় এবং দুঃপদায়ক জানাইয়া থাকেন, যাহার দ্বারা তাহার নিরস্তর ক্লেশ প্রাপ্ত হয় ; এ নিমিত্ত এ বিষয়ে কিঞ্চিং লিখিতেছি। স্ত্রীলোকের শারীরিক পরাক্রমে পুরুষ হইতে প্রায় নূন হয়, ইহাতে পুরুষেরা তাহারদিগকে আপন হইতে দুৰ্ব্বল জানিয়া যে যে উত্তম পদবীর প্রাপ্তিতে তাহারা স্বভাবতঃ যোগ্য ছিল, তাহা হইতে উহারদিগকে পূৰ্ব্বাপর বঞ্চিত করিয়া আসিতেছেন; পরে কহেন যে, স্বভাবতঃ তাহারা সেই পদ প্রাপ্তির যোগ্য।