পাতা:মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত.djvu/১৪৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন। ১৩৯ লেখনী চালনা করিয়াছিলেন। স্ত্রীলোকের দায়াধিকারসম্বন্ধে হিন্দুসমাজে এক্ষণে যে ব্যবস্থা প্রচলিত রহিয়াছে, ইহা যে নিতান্ত অন্তায় ও প্রাচীন শাস্ত্রবিরুদ্ধ, ইহা তিনি শাস্ত্রীয় প্রমাণ ও বিশুদ্ধ যুক্তি অবলম্বনপূৰ্ব্বক নিঃসংশয়ে প্রতিপন্ন করেন। তিনি বলেন যে, শাস্ত্রানুসারে পত্নী মৃতপতির সম্পত্তিতে পুত্রদিগের স্তায় সমানাধিকারিণী। একাধিক পত্নী থাকিলে তাতারা প্রত্যেকে স্বামীর সম্পত্তির অংশ ভাগিনী। যাহাতে সপত্নীপুত্রের পুত্রহীন বিমাতাকে তাহার স্বামীর বিত্ত হইতে বঞ্চিত করিতে না পারেন, তজ্জন্ত কোন কোন ঋষি ইহা বিশেষরূপে ব্যবস্থা করিয়াছেন যে, উক্ত অবস্থাপন্ন বিধবারা নিশ্চয়ই 'স্বামীর সম্পত্তিতে অধিকারিনী হইবেন। রাজ রামমোহন রায় অত্যন্ত আক্ষেপ করিয়াছেন যে, আধুনিক দায়ভাগকারগণ প্রাচীন মহর্বিদিগের অভিপ্রায় উল্লঙ্ঘন করিয়া পতিবিত্তসম্বন্ধে হিন্দুরমণীর অধিকার খৰ্ব্ব করিয়াছেন। তিনি বলেন, দায়তত্ব ও দায়ভাগ লেখকগণের মতে যদি স্বামী জীবদ্দশায় পুত্রহীন পত্নীকে সম্পত্তি ভাগ করিয়া না দিয়া যান, তাহা হইলে তাহার মৃত্যুর পর তিনি তাহাতে অধিকারিণী হই বেন না ; যে স্ত্রীলোকের কেবল একমাত্র পুত্র আছে, তাহারও স্বামীবিত্তেতে সত্ত্ব জন্মিবে না , পুত্র বিষয়াধিকারী হইবে। পুত্রের মৃত্যুতে পুত্রবধু বিষয়াধিকারিণী হইবে, তথাচ স্বামীসম্পত্তিতে র্তাহার লেশমাত্র অধিকার জন্মিবে না । পুত্র জীবিত থাকিতে অন্ন বস্ত্রের জন্য তাহার মুখাপেক্ষা করিতে হইবে,পুত্রের মুখাপেক্ষার অর্থ অনেক স্থলে পুত্র-বধুর মুখাপেক্ষ।