পাতা:মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত.djvu/১৪৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৪০ মহামা রাজ রামমোহন রায়ের জীবনচরিত। পুত্রের মৃত্যু হইলে তাহাকে সম্পূর্ণরূপে পৌত্র বা পুত্রবধূর প্রতি নির্ভর করিতে হইবে। রাজা রামমোহন রায় প্রদর্শন করেন যে, ইয়োরোপীয় ব্যবস্থা শাস্ত্র অপেক্ষা প্রাচীন হিন্দু শাস্ত্রে দায়াধিকার সম্বন্ধে নারীজাতির প্রতি অনেক গুণে স্তায় ও দয়া প্রকাশ করা হইয়াছে। কিন্তু আধুনিক টাকাকারদিগের দোষাবহ মীমাংসার জন্ত তাহার। সে সৌভাগ্য হইতে বঞ্চিত হইতেছেন। কল্য যিনি গৃহের কত্রী ছিলেন, অদ্য স্বামীর মৃত্যুতে তিনি সম্পূর্ণরূপে পুত্র ও পুত্র-বধুদিগের অনুগ্রহের পাত্রী ; অনেক সময়ে তাচ্ছল্য ও অনাদরের পাত্রী। তিনি তাহাদিগের অনুজ্ঞাব্যতীত একটি পয়সা কি একখানি বস্ত্র ও কাহাকে দান করিতে পারেন না। পুত্রবধূ ও শাশুড়ির মধ্যে বিবাদ হইলে অনেক সময়ে পক্ষপাতী পুত্ৰ, বধূর পক্ষ অবলম্বন পূৰ্ব্বক জননীকে নির্যাতন করে। বহুবিবাহের প্রাবল্যবশতঃ এ দেশে বিধবা বিমাতার সংখ্যা অধিক ; সুতরাং অনেক অনাথ পুত্রহীন বিধবাকে সপত্নী পুত্রের হস্তে যারপর নাই যন্ত্রণাভোগ করিতে হয়। রাজ রামমোহন রায় বিধবাদিগের দুৰ্গতি বর্ণনা করিয়া তৎপরে প্রতিপন্ন করিয়াছেন যে, দায়াধিকার সম্বন্ধীয় অন্যায় ব্যবস্থা বঙ্গদেশে সহমরণ ও বহুবিবাহের আধিক্যের একটা কারণ। তিনি বলেন, ভারতবর্ষের অপরাপর স্থান অপেক্ষা বঙ্গ ভূমিতে সহমরণের সংখ্যা অধিক। কেবল ভ্রান্ত বিশ্বাস ও বাল্য-সংস্কার এই আধিক্যের কারণ নহে। স্বামীর মৃত্যুর পর তাহার বিত্ত হইতে বঞ্চিত থাকিয়া বিধবাগশকে কি প্রকার