পাতা:মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত.djvu/১৫৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৫২ মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত। বাট চল্লিশ টাকা ভাড়ায় স্কুলের জন্য স্থির করিয়া দেন। তথা হইতে সমাজ উঠিয়া আসিবার সময়ে রামমোহন রায় একখানা বড় টানাপাথার প্রতি অঙ্গুলি নির্দেশ করিয়া ঈষৎ হাস্যপূৰ্ব্বক Jo Hirsato afoa, “I leave you that legacy of mine" এতদ্ভিন্ন বিদ্যালয়েয় জন্য প্রথম কয়েক জন ছাত্র তিনিই সংগ্ৰহ করিয়া দিয়াছিলেন। প্রায় এক মাস কাল তিনি নিজে প্রত্যহ বিদ্যালয়ে গমন করিয়া উহার তত্ত্বাবধান করিতেন। প্রতি দিন “ঈশ্বরের নিকট প্রার্থন পূৰ্ব্বক বিদ্যালয়ের কার্য্য আরম্ভ হয় দেখিয়া তিনি অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করিতেন, এবং থুষ্টের আদর্শ প্রার্থনাটী (Lord's Prayer) বিশেষ উপযোগী বলিয়া তাহা ব্যবহার করিতে অনুরোধ করিতেন। তিনি উক্ত প্রার্থনাটিকে অত্যন্ত ভাল বাসিতেন। তিনি বলিতেন যে, কোন পুস্তক বা ভাষায় এরূপ সংক্ষিপ্ত অথচ উদার ভাবপূর্ণ প্রার্থন দেখিতে পাওয়া যায় না। ডফ সাহেবের স্কুলে বাইবেল পাঠ হইত বলিয়া তাহার কিছুমাত্র আপত্তি ছিল না। তিনি বলিতেন যে, সকল প্রকার শিক্ষণ ধৰ্ম্মের উপরে প্রতিষ্ঠিত হওয়া উচিত। বিদ্যালয়ে বাইবেল শিক্ষা হইলে তাহার মতে কোন প্রকার অনিষ্ট হওয়া দূরে থাকুক,বরং বিশেষ উপকারেরই সম্ভাবন ৷ ডফ সাহেবের স্কুল যে দিন প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়, ছাত্ৰগণ বাইবেল পড়িতে আপত্তি করিলে, রামমোহন রায় তাহাদিগকে বলিয়াছিলেন;–“বাইবেল পড়িলেই খ্ৰীষ্টয়ান হয় না, আমি আদ্যোপাত্ত সমস্ত বাইবেল পাঠ করিয়াছি, অথচ খৃষ্টয়ান হই নাই; কোরান পাঠ করিয়াছি, অথচ মুসলমান হই নাই।