পাতা:মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত.djvu/১৬৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৬• মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত। আর একখানি পুস্তকের কথা বলিব ; ইহার নাম “কারস্থের সহিত পদ্যপান বিষয়ক বিচার” । উক্ত পুস্তকে প্রতিপন্ন করা হুইয়াছে যে, শূদ্রের পক্ষে মুরাপান শাস্ত্রবিরুদ্ধ কাৰ্য্য নহে। এমন কি, ব্রাহ্মণ প্রভৃতি জাতিরও বিহিত মদ্যপানের অধিকার আছে ; শাস্ত্রানুযায়ী সুরাপান করিলে ধৰ্ম্মহানি হয় না। রামমোহন রায় মদ্যপানের পক্ষ সমর্থন কেবল এই ক্ষুদ্র পুস্তকেই করিয়াছেন এমন নহে ; পথ্যপ্রদান গ্রন্থের সপ্তম পরিচ্ছেদেও ঐ একার মত সমর্থিত হইয়াছে । রাজা রামমোহন রায় সুরাপানের পক্ষ সমর্থন করিতেন, ইঙ্গা শুনিয়া অনেকেই আশ্চৰ্য্য হইবেন ; বিবেচনা করিলে ইহাতে বিশেষ আশ্চর্যোর বিষয় কিছুই নাই। মহাপুরুষেরাও ভ্রম প্রমাদ শূন্ত নহেন ; ইহাতে কেবল এই সত্যটাই প্রতিপন্ন হইতেছে। বিশেষতঃ এ সম্বন্ধে একটী কথা আমাদের স্মরণ করা উচিত। আমরা এক্ষণে সুরাপানের যে প্রকার বিষময় ফল প্রত্যক্ষ করিতেছি, তাহার সময়ে তাহার কিছুই ছিল না। হিন্দুসমাজের মধ্যে বিলাতি সভ্যতার আধিপত্য তখন এত দূর বিস্তৃত হয় নাই। সুরাপান তিনি দূষণীর মনে করিতেন না বটে, কিন্তু অতিরিক্ত পানের প্রতি তাহার আন্তরিক ঘৃণা ছিল। যে পরিমাণে সুরাপান করিলে চিত্তের চাঞ্চল্য উপস্থিত হয়, তাহা তিনি যার পর নাই নিন্দনীয় কাৰ্য্য বলিয়া মনে করিতেন। তিনি নিজে এত অল্প পরিমাণে মুরা পান করিতেন যে, তাহাতে র্তাহার চিত্তচাঞ্চল্য উপস্থিত হইত না। কোন প্রাচীন ব্যক্তি বলেন যে, তিনি যতবার একটু একটু করিয়া স্বরাপান করি