পাতা:মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত.djvu/১৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১২ মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত। সংঘটন সম্বন্ধে একটি গল্প আছে। গল্পটি এই ;–ব্রজবিনোদ রায় অন্তিমকালে গঙ্গাতীরস্থ হইলে শ্রীরামপুরের নিকটবৰ্ত্তী চাতরা নিবাসী শুমি ভট্টাচাৰ্য্য ভিক্ষার্থ হইয় তাহার নিকট উপস্থিত হইলেন ; শুাম ভট্টাচাৰ্য্য সন্ত্রান্ত বংশীয়, ইহার দেশগুরু বলিয়া বিখ্যাত ছিলেন। ব্রজবিনোদ রায় তাহার প্রার্থনা পূর্ণ করিতে প্রতিশ্রুত হইলে, শুাম ভট্টাচাৰ্য্য বলিলেন যে, মহাশয়, অনুগ্রহ পূর্বক এই আজ্ঞা করুন যে, আপনার কোন একটি পুত্রকে আমার কন্যা সম্প্রদান করিতে পারি। শুাম ভট্টাচাৰ্য্য শাক্ত ও ভঙ্গকুলীন ; সুতরাং তাহার প্রস্তাবে সহজেই অসম্মতি হইলার কথা। কিন্তু ব্ৰজবিনোদ রায় কি করেন ; তিনি ভাগীরথী সমীপে প্রতিজ্ঞ করিয়াছেন যে, তাহার কামনা পূর্ণ করি বেন। সুতরাং অস্বীকার করা অসম্ভব হইল । তিনি তখন আপনার পুত্ৰগণের প্রত্যেককে এ বিষয়ের জন্ত অনুরোধ করিলেন। র্তাহার সাত পুত্রের মধ্যে ক্রমে ক্রমে ছয় জন অসম্মতি প্রকাশ করিলেন। পরিশেষে তাহার পঞ্চম পুত্র রামকান্ত আলাদপূৰ্ব্বক পিতৃসত্য পালনে অঙ্গীকার করিলেন। এই রামকাস্তুের ঔরসে ও খাম ভট্টাচার্য্যের কন্যা তারিণী দেবীর গর্ভে রামমােহন রায়ের জুত্র হয়। তারিণী দেবীকে পরিবারস্থ সকলে ও অন্যান্ত লোকে ফুলঠাকুরাণী বলিত। রামকান্ত যেন পিতৃভক্তি ও স্বাৰ্থত্যাগের পুরস্কার-স্বরূপ রামমোহন রায়রূপ পুত্ররত্ন লাভ করিয়াছিলেন। রামমোহন রায়ের অগ্রজের নাম জগন্মোহন। রামলোচন নামে তাহার এক বৈমাত্রেয় ভ্রাত ছিলেন। তিনি তাহাদের উভয়ের অপেক্ষ বয়ঃকণিষ্ঠ ।