পাতা:মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত.djvu/১৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৪ মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত। জগন্নাথদর্শনের জন্য যাত্র করেন। দেবদর্শনে যাইতে হইলে কষ্ট স্বীকার করিয়া যাইতে হয়, এই বিশ্বাসবশতঃ সাংসারিক অবস্থা ভাল থাকা সত্ত্বেও, তিনি সঙ্গে এক জন দাসী পৰ্য্যন্ত ও গ্রহণ করেন নাই ; এমন কি, পথে র্তাহার সুবিধা ও সুখের জন্য কোন প্রকার উপায় করিতেও দেন নাই ; দুঃখিনীর ন্যায় পদব্রজে শ্ৰীক্ষেত্র যাত্রা করিয়াছিলেন। পরলোক গমনের পূৰ্ব্বে এক বৎসর কাল দাসীর ন্যায় জগন্নাথদেবের মন্দির সন্মার্জনীর দ্বারা প্রত্যহ পরিষ্কৃত করিতেন। আবার এরূপও কথিত আছে যে, তিনি মৃত্যুর এক বৎসর পূৰ্ব্বে রামমোহন রায়কে বলিয়াছিলেন, “রামমোহন ! তোমার মতই ঠিক। আমি অবলী স্ত্রীলোক, এবং অত্যন্ত বৃদ্ধ হইয়াছি ; সুতরাং যে সকল পৌত্তলিক অনুষ্ঠানে আমি সুখ পাইয়৷ থাকি, তাহ আর পরিত্যাগ করিতে পারি না”। একটি গল্প । ফুলঠাকুরাণীর শাক্তবংশে জন্ম হইলেও তিনি স্বামীগৃহে আসিয়া বিষ্ণুমন্ত্রে দীক্ষিত হন। এস্থলে আমরা পাঠকবর্গের নিকট একটি গল্প বলিব। ফুলঠাকুরাণী একবার কোন উৎসব উপলক্ষে কণিষ্ঠ পুত্র রামমোহনকে সঙ্গে লইয়া পিতৃভবনে আসিয়াছিলেন। এক দিন হাম ভট্টাচাৰ্য্য ইষ্টদেবতার পূজার পর শিশু রামমোহনকে পূজোপকরণ বিবদল প্রদান করেন। ফুলঠাকুরাণী আসিয়া দেখেন যে, রামমোহন বিল্বপত্র চৰ্ব্বন করিতেছেন। দেখিয়া বিষ্ণুমন্ত্র-দীক্ষিত ফুলঠাকুরাণীর বড়ই ক্ৰোধ হইল। তিনি সস্তানের মুখ হইতে বিল্বপত্র ফেলিয়।