পাতা:মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত.djvu/১৯১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৮৬ মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত। কোনক্রমেই সেখান হইতে অস্তরিত করিতে চাহিতেন না। অধিকাংশ সময়েই তিনি সংস্কৃত ও হিব্রু পাঠ করিতেন। মধ্যাহ্নের পূৰ্ব্বে এবং সন্ধ্যাকালে ডেকের উপরে বায়ু সেবন করিতেন ; এবং কখন কখন কোন ব্যক্তির সহিত উৎসাহ সহকারে তর্কে প্রবৃত্ত হইতেন। জাহাজের যাত্রী সকলের আহারের পর মেজ পরিষ্কৃত হইলে তিনি আপনার ঘর হইত্তে আসিয়া সেখানে উপবেশন পূর্বক সকলের সহিত কথোপ কথনে নিযুক্ত হইতেন। তিনি সৰ্ব্বদাই প্রফুল্ল থাকিতেন। র্তাহার প্রতি জাহাজের সকল লোকেরই শ্রদ্ধা আকৃষ্ট হইয়াছিল। কে র্তাহাকে তাধিক যত্ন করিবে, ইহা লইয়া তাহাদের মধ্যে প্রতিযোগীত উপস্থিত হইয়াছিল। এমন কি, জাহাজের খালাসীরা পর্য্যন্ত তাহাদের সাধ্যানুসারে কোন প্রকারে তাহার সেবা করিবার জন্য ব্যস্ত হইত। ঝটিকা উপস্থিত হইলে তিনি ডেকের উপরে আসিয়া দাড়াইতেন এবং সুনীলপ্রসারিত শুভ্ৰ-ফেণ-শোভিত সাগর দর্শন ও তাহার গভীর গর্জন শ্রবণ করিয়া স্তব্ধ হইয়া থাকিতেন।” রামমোহন রায় জাহাজে র্তাহার সঙ্গে একটি দুগ্ধবতী গাভী লইয়া বিলাত গিয়াছিলেন।• আমরা পূৰ্ব্বে বলিয়াছি যে, রামমোহন রায় যে জাহাজে বিলাত যাইতেছিলেন, তাহ যখন আফ্রিকার দক্ষিণাংশে

  • হুগলি কলেজের ভূতপূৰ্ব্ব অধ্যক্ষ কার সাহেব বলিতেন যে, যে জাহাজে রামমোহন রায় বিলাত গিয়াছিলেন, তিনি সেই জাহাজে ছিলেন। তিনি দেখিয়াছিলেন যে, দুগ্ধপানের সুবিধা হইবে বলিয়া তিমি একটি দুগ্ধবতী গাভী জাহাজে সঙ্গে করিয়া লইয়াছিলেন।