পাতা:মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত.djvu/২০৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ইংলণ্ড-বাস । २०x শাস্ত্র যেরূপ পূৰ্ব্ব দেশীয় কল্পনা ও ভাবের উজ্জল বর্ণেরঞ্জিত রহিয়াছে, এবং কেবল মানবের মন নয়, হৃদয় ও আত্মার ভাব উক্ত শাস্ত্রের মধ্যে যেরূপ বিদ্যমান রহিয়াছে, উক্ত পণ্ডিতেরা সে প্রকারে চিত্রিত করিতে পারেন নাই। হায় ! হৃদয় ও আত্মার ভাবে আমাদের ধৰ্ম্ম প্রকাশ হউক, এবং সমগ্র মানবজাতি পরমেশ্বরের প্রতিকৃতিতে গঠিত হউক । রবার্টওয়েনের সহিত তর্ক। রামমোহন রায় ইংলণ্ডের প্রধান পণ্ডিতগণের সহিত আলাপ করিতে লাগিলেন। সকলেই তাহার বিদ্যা বুদ্ধি দেখিয়া অবাকৃ হইতে লাগিলেন। এক দিবস আর্নট সাহেবের বাটীতে একটা ভোজে রামমোহন রায়ের সহিত চিয়ম্মরণীয় সাম্যবাদী রবার্ট ওয়েনের সাক্ষাৎ হইয়াছিল। রবার্ট ওয়েন ইংলণ্ডে সাম্যবাদের প্রথম প্ৰবৰ্ত্তক । তিনি তাহাকে আপনার মত বুঝাইয়া দিতে অত্যন্ত যত্ন করিতে লাগিলেন। রামমোহন রায় পূৰ্ব্ব হইতেই উক্ত বিষয়টি ভালরূপ বুঝিতেন। স্বতরাং তিনি ওয়েন সাহেবকে তাতার মতের দোষ প্রদর্শন করিতে চেষ্টা করিতে লাগিলেন। ঘোরতর তর্ক বাধিয়া গেল। মিস্ কার্পেণ্টর এই বিষয়ে একজন চাক্ষুষদর্শীর যে পত্রৰ্তাহার প্রণীত রামমোহম রায়ের জীবনচরিত পুস্তকে প্রকাশ করিয়াছেন, তাহাতে অবগত হওয়া যাইতেছে যে, রবার্টওয়েন রামমোহন রায়ের নিকট সম্পূর্ণ পরাস্ত হইয়াছিলেন। পরাস্ত হইয়া তিনি অত্যন্ত রাগিয়া উঠিয়াছিলেন। কিন্তু রামমোহন রায়ের পূৰ্ব্ব ধীরভাব কিছুতেই বিচলিত হয় নাই।