পাতা:মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত.djvu/২২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পূৰ্ব্বপুরুষ, মাতা পিতা ও বাল্যকাল। ১৭ : যে, এক সময়ে তিনি ভাগবতের এক অধ্যায় পাঠ না করিয়া জলগ্ৰহণ করিতেন না। এরূপ গল্প আছে যে, তিনি বহু অর্থ ব্যয় পূৰ্ব্বক দ্বাবিংশতিবার পুরশ্চরণ করিয়াছিলেন। বাল্যশিক্ষা ও মতপরিবর্তন । ইহা বলা বাহুল্য যে, প্রথমে গুরুমহাশয়ের পাঠশালায় রাম মোহন রায়ের বিদ্যারম্ভ হয়। তৎকালে গুরুমহাশয়ের পাঠশালা, ভট্টাচার্যের চতুষ্পাঠী এবং মৌলবিদিগের পারসি ও আরবি শিক্ষার স্থান; এই তিন প্রকার শিক্ষার স্থান ছিল। শৈশবকালেই ত্বাহার অসাধারণ মেধা ও বুদ্ধিশক্তির পরিচয় পাইয়া গ্রামস্থ লোকের আশ্চৰ্য্য হইয়াছিল। র্তাহার স্মৃতিশক্তিসম্বন্ধে আশ্চর্য্য গল্প সকল প্রচলিত হইয়াছিল। তিনি পিতৃগৃহেই পারস্য ভাষা শিক্ষা আরম্ভ করেন ; কিন্তু উক্ত ভাষায় বিশেষ উন্নতি ও আরবী শিক্ষার জন্ত নবম বৎসর বয়সে, রামকান্ত রায় তাহাকে পাটনায় প্রেরণ করেন। তিনি তথায় দুই তিন বৎসর অবস্থিতি করিয়া আরবী ভাষায় ইউক্লিড় ও আরিষ্টটলের গ্রন্থ পাঠ করেন। এই উভয় গ্রন্থ পাঠে তাহার স্বভাবতঃ সুতীক্ষ বুদ্ধিশক্তি বিশেষরূপ সন্মার্জিত হয়, এবং যে তর্কশক্তি উপধৰ্ম্মনিচয়ের ভিত্তিমূল বিকম্পিত করিয়াছিল, তাহ প্রথমে এইরূপেই বিকাশ প্রাপ্ত হয়। এমনও বোধ হয় যে, আরবী ভাষায় কোরান পাঠ জন্য ও মুসলমান মৌলবীদিগের সংস্রবে আসাতে তাহার মনে এই সময়েই একেস্বরবাদের ভাব প্রথমে প্রষ্টি হইয়াছিল। স্বকীদিগের গ্রন্থ পাঠে তিনি অত্যন্ত আসক্ত হন। এই আসক্তি যাবজ্জীবন প্রবল ছিল ; পরিণত বয়সে র্তাহার প্রিয় হাফেজ, মৌলানারুমি,