পাতা:মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত.djvu/২৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৮ মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত । শামীজ তাত্ৰিজ, প্রভৃতি স্বকী কবিগণের গ্রন্থ হইতে ভূরি ভূরি কবিতা উৎসাহের সহিত আবৃত্তি করিতেন। সুকীদিগের মত বেদান্তধৰ্ম্ম ও প্লেটোর মতের অনুরূপ। সুতরাং ইহাও তাহার মতপরিবর্তনের একটি বিশেষ কারণ বলিয়া বোধ হয়। উপধৰ্ম্মের প্রতিবাদ ও দেশভ্রমণ । পাটনায় পারসী ও আরবী শিক্ষা সমাপ্ত হইলে, বিশেষরূপে হিন্দুধৰ্ম্মের মৰ্ম্মজ্ঞ করিবার উদ্দেশে,রামকান্ত রায় তাহাকে সংস্কৃত শাস্ত্র অধ্যয়ন-জন্ত, দ্বাদশ বর্ষ বয়সে, তাহাকে কাশীতে প্রেরণ করেন। তিনি তথায় অল্পকালের মধ্যে বেদাদি শাস্ত্রে আশ্চর্যারূপ জ্ঞান উপার্জন করেন। গৃহপ্রত্যাগমনের পর তিনি সৰ্ব্বদাই ধৰ্ম্মসম্বন্ধে চিন্তা করিতেন, এবং তজ্জন্ত প্রচলিত ধৰ্ম্মের প্রতি সন্দেহ উপস্থিত হইত। প্রথমতঃ মুসলমান শাস্ত্রের একেশ্বরবাদ ও তৎপরে প্রাচীন হিন্দু শাস্ত্রের ব্ৰহ্মজ্ঞান এই উভয়ই তাহার মত পরিবর্তনের কারণ বলিয়া বোধ হয়। এই সময়ে পিতা পুত্রে মতভেদ উপস্থিত হইতে লাগিল। মধ্যে মধ্যে উভয়ে তর্ক বিতর্ক হইত। রামকান্ত রায় পুত্রের ভিন্ন মতি দেখিয়া দুঃখিত ও বিরক্ত হইতে লাগিলেন। বিরক্তির কারণ ক্রমে অনেকগুণে বৃদ্ধি হইল। রামমোহন রায় এই সময়ে (প্রায় ষোড়শ বৎসর বয়সে) প্রচলিত ধৰ্ম্মের বিরুদ্ধে “হিন্দুদিগের পৌত্তলিক ধৰ্ম্মপ্রণালী” নামে একখানি গ্রন্থ রচনা করিলেন। {ষ সময়ে পৌত্তলিকতার নিবিড় অন্ধকারে সমগ্র দেশ নিমজ্জিত, যখন পাশ্চাত্য জ্ঞান ও সভ্যতার একটি রশ্মিও সেই অন্ধকার ভেদ করে নাই,যখন সমুদয় দেশের মধ্যে একটও ইংরেজী বিদ্যা