পাতা:মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত.djvu/২৮৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২৭৮ মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত । তিনি জন্মান্তর, জীবাত্মার ও পরমাত্মার একত্ব, নিৰ্ব্বাণ মুক্তি, প্রভৃতি মতে আস্থা প্রদর্শন করিতেছেন। আমরা এস্থলে একটা দৃষ্টান্ত প্রদর্শন করিতেছি। ভট্টাচার্য্যের সহিত বিচারপুস্তকে একস্থলে ভট্টাচাৰ্য্য জিজ্ঞাসা করিতেছেন যে, “যে শাস্ত্রপ্রমাণে ব্ৰহ্মকে মান, সেই শাস্ত্রপ্রমাণে দেবতাদিগকে কেন না মান ?” রামমোহন রায় ইহার উত্তরে বলিতৃেছেন যে,–“ব্ৰহ্মাবিষ্ণুমহেশাদিদেবতা ভূতজাতয়;" ইত্যাদি শাস্ত্রীয় বচনানুসারে তিনি দেবতাদিগের অস্তিত্ব মানিয়াছেন, এবং তাহাদিগকে জন্ম ও মৃত্যুর অধীন বলিয়া স্বাকার করেন। এস্থলে কে বলিবেন যে, রামমোহন রায় বাস্তবিক ব্ৰহ্মা, বিষ্ণু,শিব প্রভৃতি দেবতার সত্তায় বিশ্বাস করিতেন ? প্তাহার বাক্যের প্রকৃত তাৎপৰ্য্য এই মাত্র যে, শাস্ত্রের তাৎপৰ্য্যাকুসারে তিনি দেবতাদিগের অস্তিত্ব ও তাহাদিগের নশ্বরত্ব সিদ্ধান্তু করিয়াছেন । বাইবেলশাস্ত্র সম্বন্ধেও অবিকল সেইরূপ । উক্ত শাস্ত্ৰবিষ, রক বিচারগ্রন্থ স্কলের ষে যে স্থল পাঠ করিলে বোধ হয় যে, তিনি গ্রীষ্টের অলৌকিক ক্রিয় ও মৃত্যুর পরে তাহার পুনরুত্থানে বিশ্বাস প্রকাশ করিতেছেন, তাহ বাস্তবিক তাহার জাস্তরিক বিশ্বাসের কথা নহে। ঐ সকল স্থলের প্রকৃত তাৎপৰ্য্য কেবল এই মাত্র যে, অলৌকিক ক্রিয় প্রভৃত্তি উক্ত শাস্ত্রসঙ্গত বলিয়া তিনি স্বীকার করেন। তিন ঈশ্বরের মত, খৃষ্ট্রর ঈশ্বরত্ব প্রভৃতি খ্ৰীষ্টীয়ানদিগের কয়েকটা মত যে বাস্তবিক তাহাদিগের শাস্ত্রসিদ্ধ মহে, ইহা তিনি মুলারহ্মপে প্রতিপন্ন করিয়াছিলেন। খ্ৰীষ্টের