পাতা:মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত.djvu/৩৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৩০ মহাত্মা রাজ রামমোহন রায়ের জীবনচরিত। তখনও অন্তান্ত সৰ্ব্বত্র পারস্ত ভাষারই চলন ছিল । সুতরাং রামমোহন রায় দ্বাবিংশ বৎসর বয়ঃক্রম পর্য্যন্ত ইংরেজী ভাষা কিছুই জানিতেন না। ঐ সময়ে তিনি প্রথম ইংরেজী শিক্ষা আরম্ভ করেন। আরম্ভ করেন বটে, কিন্তু তৎপরে পাচ ছয় বৎসর পর্য্যন্ত তিনি উহা মন দিয়া শিক্ষা করেন নাই। সংস্কৃত, আরবি ও পারসি ভাষায় লিখিত শাস্ত্র সকল অধ্যয়নেই বিশেষ অভিনিবিষ্টচিত্ত ছিলেন। সুতরাং সাতাস আটাস বৎসর বয়সেও তিনি সামান্ত সামান্ত বিষয়ে কোন প্রকারে ইংরেজী ভাষায় মনের ভাব প্রকাশ করিতে পারিতেন মাত্র। ইংরেজী রচনা প্রায় কিছুই পারিতেন না। গবর্ণমেণ্টের অধীনে কৰ্ম্মগ্রহণ ও আত্মসম্মান রক্ষা। । এই সময়ে তিনি গবর্ণমেণ্টের অধীনে কৰ্ম্ম গ্রহণ করেন। মুসলমান রাজশাসনের যতই কেন দোষ থাকুক্‌ না, উহার একটি বিশেষ গুণ এই ছিল যে, রাজ্যের সৰ্ব্বোচ্চপদ লাভেও হিন্দু মুসলমান উভয় জাতির সমান অধিকার ছিল। কেবল প্রধান মন্ত্রীত্ব নহে, প্রধান সেনাপতির পদপৰ্য্যন্ত হিন্দুর লাভ করিতে পারিতেন। কঠোরহৃদয় অত্যাচারী বাদসাহ অরেঙ্গজীবের প্রধান সেনাপতি যশোবন্ত সিং একজন হিন্দু। মুসভ্য ইংরেজ জাতির অধীনে আমাদের সে সৌভাগ্য অস্তমিত হইয়াছে। সিবিল সাভিসের দ্বার নামেমাত্র আমাদের নিকট উন্মুক্ত, "বাস্তবিক কার্য্যে এখন উহা এক প্রকার অবরুদ্ধ। তথাচ বৰ্ত্ত মান সময়ে যাহাই কেন হউক না, রামমোহন রায়ের সময়ে