পাতা:মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত.djvu/৩৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৩২ মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত। অপর দিকে ঔদ্ধত্য, অভদ্রতা ও অশিষ্টাচার। সুতরাং রামমোহন রায়ের ন্তায় একজন স্বাধীনচিত্ত, উন্নতমনা লোক যে, কৰ্ম্মগ্রহণের পূৰ্ব্বে সতর্ক হইবেন, ইহা আশ্চৰ্য্য নহে। তিনি রংপুরের কালেক্টর শ্ৰীযুক্ত জন ডিগবি সাহেবের অধীনে কেরাণীগিরি কৰ্ম্মের জন্য প্রার্থী হইয়াছিলেন। সাহেব র্তাহাকে কৰ্ম্ম দিতে অঙ্গীকার করিলে তিনি তাহার নিকট এই প্রস্তাব করিলেন যে,তিনি এই মৰ্ম্মে একটা লেখাপড়া করিয়া তাছাতে স্বাক্ষর করিয়া দিন যে, যখন তিনি কার্য্যের জন্য তাহার সম্মুখে আসিবেন, তখন র্তাহাকে আসন দিতে হইবে, এবং সামান্ত আমলাদিগের প্রতি যে প্রকারে হুকুমজারি করা হয়, তাহার প্রতি সে প্রকার করা হইবে না। কেবল মুখের কথায় সস্তুষ্ট না হইয়া উক্ত বিষয়ে একটা দলিল লিখিয়া দিবার জন্ত সাহেবকে অনুরোধ করিলেন । ধৰ্ম্মামুগত আত্মসন্মানবোধ এবং স্বাধীনতাপ্রিয়তা রামমোহন রায়ের অতিশয় প্রবল ছিল। র্তাহার জীবনের ভূরি ভুরি ঘটনা তাহার চরিত্রের এই বিশেষ ভাবটী প্রকাশ করে। ডিগ্‌বি সাহেব তাহার প্রস্তাবে সন্মত হইয়া উক্ত মৰ্ম্মের এক দলিলে স্বাক্ষর করিয়া দিলেন ; রামমোহন রায়ও কৰ্ম্মগ্রহণ করিলেন । রামমোহন রায় এ প্রকার যত্ন ও উৎসাহ সহকারে কার্য্য সম্পাদন করিতে লাগিলেন যে, সাহেব তাহার প্রতি দিন দিন অধিকতর সস্তুষ্ট হইতে লাগিলেন। কিছুদিন পরেই রামমোহন রায় দেওয়ানি পদ প্রাপ্ত হইলেন। ডিগ্‌বি সাহেব, রামমোহন রায়ের বিদ্যাবুদ্ধি, কাৰ্য্যদক্ষতা ও কর্তব্যশীলতার পরিচয় যতই