পাতা:মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত.djvu/৪৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৩৮ মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত। তিনি কৰ্ম্মোপলক্ষে স্থানান্তর গমন কালে তাহার প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করিতেন।” আর একটা কথা। কি কি উপায়ে রামমোহন রায় ধনসংগ্ৰহ করিয়াছিলেন,যাহার। তাহাবিশেষ করিয়া কিছুই জানেন না, তাহারাই তাহার সংসারিক অবস্থার উন্নতির জন্ত তাহাকে উৎকোচগ্রাহী বলিয়া সিদ্ধান্ত করেন। রামমোহন রায় যে সময়ে দেওয়ানী কৰ্ম্ম করিতেন, তখন ওকালতী, ব্যারিষ্টরি প্রভৃতি ব্যবসায়ের স্বষ্টি হয় নাই। রামমোহন রায় আইনজ্ঞ ব্যক্তি ছিলেন। ব্যবস্থাশাস্ত্রে তাহার বিশেষ পারদর্শিত ছিল। সুতরাং তৎকালীন লোকে প্রয়োজন হইলে তাহার নিকটে আইন সম্বন্ধে পরামর্শ ও ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে আসিতেন। ইহাতে তাহাদের বিশেষ সুবিধা হইত ; এবং রামমোহন রায়ের নিকট যে উপকার পাইতেন, তাহার প্রতিদানস্বরূপ তাহারা তাহাকে অর্থ সাহায্য করিতেন। যদি এ প্রকারে অর্থ গ্রহণ করা ধৰ্ম্মবিরুদ্ধ হয়, তাহা হইলে উকীল, ব্যারিষ্টর প্রভৃতি ব্যবসায়ীর আইন সম্বন্ধে পরামর্শ বা ব্যবস্থা দিয়া যে অর্থ গ্রহণ করিয়া থাকেন, তাহাও ধৰ্ম্মবিরুদ্ধ। দেশপ্রচলিত পৌত্তলিকতা ও কদাচারনিচয়ের বিরুদ্ধে দণ্ডায়মান হওয়ার জন্য বহুসংখ্যক লোক (দেশগুদ্ধ লোক বলিলেও হয়) তাহার শক্র হইয়াছিল। এরূপ স্থলে তাহার কোন অখ্যাতি রটনা হইলে অখণ্ডনীয় প্রমাণ ব্যতীত তাহা কখনই বিশ্বাস করা উচিত মহে। উৎকোচ গ্রহণ ব্যতীত রামমোহন রায়ের নামে আর একটি ফুর্ণাম আছে। আমরা উপযুক্ত স্থলে তাহার উল্লেখ করিব।