পাতা:মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত.djvu/৪৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৪৪ মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত করিতে না পারিতেন, তাহারা কাৰ্য্যালয়ে যাইবার পূৰ্ব্বেই সন্ধ্যা পূজা হোম সকলই সম্পন্ন করিতেন ; এবং নৈবেদ্য ও টাক ব্রাহ্মণদিগের উদ্দেশে উৎসর্গ করিতেন, তাহাতেই তাহা দের সকল দোষের প্রায়শ্চিত্ত হইত। ব্রাহ্মণপণ্ডিতেরা তখন সংবাদ পত্রের অভাব অনেক মোচন করিতেন। র্তাহার প্রাতঃকালে গঙ্গাস্নান করিয়া পূজার চিহ্ন কোশাকুশি হন্তে লইয়া সকলেরই দ্বারে দ্বারে ভ্রমণ করিতেন এবং দেশ বিদেশের ভাল মন্দ সকল প্রকারই সংবাদ প্রচার করিতেন। বিশেষতঃংে কেমন দাত, শ্রাদ্ধ দুর্গোৎসবে কে কত পুণ্য করিলেন, ইহারঃ সুখ্যাতি ও অখ্যাতি সৰ্ব্বত্র কীৰ্ত্তন এবং ধনদাতাদিগের যশ ও মহিমা সংস্কৃত শ্লোকদ্বারা বর্ণন করিতেন। ইহাতে কেহব অখ্যাতির ভয়ে কেহব। প্রশংসা লাভের আশ্বাসে বিদ্যাশুদ্ধ ভট্টাচাৰ্য্যদিগকেও যথেষ্ট দান করিতেন। শূদ্র ধনীদিগের উপরে তাহদের আধিপত্যের সীমা ছিল না। র্তাহারা শিষ্য বিত্তাপহারক মন্ত্রদাতা গুরুর দ্যায় কাহাকেও পাদোদক দিয় কাহাকেও পদধূলি দিয়া যথেষ্ট অর্থ উপার্জন করিতেন ইহার নিদর্শন অদ্যাপি গ্রামে নগরে বিদ্যমান রহিয়াছে। তখনকার ব্রাহ্মণপণ্ডিতেরা দ্যায়শাস্ত্রে ও স্মৃতিশাস্ত্রে অধিক মনোযোগ দিতেন এবং তাঁহাতে যাহার যত জ্ঞানানুশীলন থাকিত, তিনি তত মান্ত ও প্রতিষ্ঠাভাজন হইতেন ; কিন্তু • তাহাদের আদিশাস্ত্র বেদে এত অবহেলা ও অনভিজ্ঞতা ছিল যে, প্রতিদিন তিন বার করিয়া যে সকল সন্ধ্যার মন্ত্র পাঠ করি তেন, তাহার অর্থ অনেকে জানিতেন কিনা সন্দেহ। বিষয়ী