পাতা:মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত.djvu/৫৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৫২ মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত । সকল বিচারের ভিত্তিস্বরূপ এই প্রথম গ্রন্থ প্রথম প্রকাশ হয়।* * * * “এই গ্রন্থের তিন ভাগ। ভূমিকা, অনুষ্ঠান ও গ্রন্থ। ব্রহ্মোপাসনার বিরুদ্ধে এদেশীয়দিগের যে সকল সাধারণ আপত্তি আছে, গ্রন্থকার ইহার ভূমিকাতে তাহার উল্লেখ পূর্বক সিদ্ধান্ত করিয়াছেন যে, (১) সদ্ৰপ পরব্রহ্মই বেদের প্রতিপাদ্য। (২) রূপ ও গুণবিহীন নিরাকার ঈশ্বরের উপাসনা করিতে পারা যায়ন, এমন নয়। (৩) পরমার্থসাধনের পূর্বাপর এক বিধি নাই, অতএব বিচার পূর্বক উত্তম পথ আশ্রয় করাই শ্রেয়। (৪) ব্ৰহ্মজ্ঞানীর ভদ্রাভদ্র, সুগন্ধি দুর্গন্ধি আদি লৌকিক জ্ঞান থাকে না, তাহী নহে। (৫) পুরাণ তন্ত্রাদি শাস্ত্রে যে সাকার উপাসনার বিধি আছে, তাহা দুৰ্ব্বল অধিকারীর মনোরঞ্জনের নিমিত্ত। বস্তুতঃ ব্রহ্মোপাসনাই সত্য এবং শ্রেষ্ঠ।” “গ্রন্থকার ইহার অনুষ্ঠানে ব্যক্ত করিয়াছেন যে, ব্রহ্মোপা সনাই পৃথিবীর অধিকাংশ স্থানে চলিত ; আর বেদাদি শাস্ত্রের অর্থ প্রচলিত ভাষায় বিবৃত করাতে দোষ নাই। পরন্তু এ পৰ্য্যন্ত বাঙ্গালা ভাষায় গদ্যেতে কোন প্রগাঢ় রচনা হয় নাই ; এ জন্য গ্রন্থকার এই অনুষ্ঠানপত্রে গদ্য রচনা পাঠের বৈয়াকরণিক কয়েকটা নিয়ম নিরূপণ করিয়াছেন।”* • রামমোহন রায় গদ্যগ্রন্থ প্রকাশ করিবার পূৰ্ব্বে, যদিও ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের জন্ত কয়েকখানি গদ্য গ্রন্থ রচিত হইয়াছিল, কিন্তু ঐ সকল পুস্তকের রচনা অতি কদৰ্য্য ও অস্পষ্ট। উহা সিবিলিয়ান সাহেবেরা পড়িতেন, সাধারণের মধ্যে প্রচলিত হয় নাই। তখন লোকে রীতিমত গদ্য পাঠ করিতে জানিন্ত