পাতা:মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত.djvu/৫৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৫৪ মহাত্মা রাজ রামমোহন রায়ের জীবনচরিত। পুরস্কৃত করেন।” মহাত্মন! তোমার ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ হইয়াছে। যাহারা তোমার প্রতি খড়গহস্ত হইয়াছিল, এক্ষণে তাহাদেরই সন্তান সন্ততিরা তোমাকে হৃদয়ের গভীরতম প্রদেশ হইতে কৃতজ্ঞতা উপহার অর্পণ করিতেছে! i উপরিউক্ত পুস্তকের ভূমিকাতে তিনি আরও বলিয়াছেন যে, বেদান্তসুত্রের অনুবাদ প্রকাশ করিবার তাহার বিশেষ অভিপ্রায় এই যে, তাহার স্বদেশবাসীগণ র্তাহাদের শাস্ত্রের প্রকৃত তাৎপৰ্য্য বুঝিতে পারেন এবং তদ্বারা প্রকৃতির পরমেশ্বরের একত্ব ও সৰ্ব্বব্যাপিত্ব চিন্তা করিতে পারেন। তদ্ভিন্ন আরও অভিপ্রায় এই যে, ইয়োরোপীয়েরা বুঝিতে পারেন যে, যে সকল কুসংস্কারমূলক অনুষ্ঠান হিন্দুধৰ্ম্মকে বিকৃত করিয়াছে, তাহার সহিত উহার বিশুদ্ধ আদেশনিচয়ের কোন সম্বন্ধ নাই। সমস্ত হিন্দুশাস্ত্র একমাত্র পরব্রহ্মের উপাসনা প্রতিপন্ন করিতেছে, সকল বিচারগ্রন্থে ইহাই প্রদর্শন করা রামমোহন রায়ের প্রধান উদ্দেশু ছিল। তিনি লিথিয়াছেন —“উপনিষদের দ্বারা ব্যক্ত হইবেক যে, পরমেশ্বর একমাত্র, সৰ্ব্বব্যাপী, আমাদিগের ইন্ত্রিয়ের অগোচর হয়েন, র্তাহারই উপাসনা প্রধান এবং মুক্তির প্রতি কারণ হয়, আর নামরূপ সকল মায়ার কার্য্য হয়। যদি কহ, পুরাণ এবং তন্ত্রাদি শাস্ত্রেতে যে সকল দেবতাদিগের উপাসনা লিখিয়াছেন, সে সকল কি প্রমাণ? আর পুরাণ এবং তন্ত্রাদি কি শাস্ত্র নহে? তাহার উত্তর এই যে, পুরাণ এবং তন্ত্রাদি অবত শাস্ত্র বটেন, যেহেতু পুরাণ এবং তন্ত্রাদিতেওঁ পরমাত্মাকে এক এবং বুদ্ধি মনের অগোচর করিয়া পুনঃ পুন: