পাতা:মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত.djvu/৬১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৫৬ মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত। বেদান্ত সার ও উহার ইংরেজী অনুবাদপ্রকাশ । ইহার পরে তিনি “বেদান্ত সার” নামে একখানি গ্রন্থ প্রকাশ করেন। পূৰ্ব্বে যে বেদান্তস্বত্র ও তাহার অনুবাদ প্রকাশ করিয়াছিলেন তাহ অতি বিস্তৃত ও কঠিন গ্রন্থ। উহা সাধারণের বোধগম্য হইবার সম্ভাবনা অল্প। যদিও তিনি অতি পরিষ্কাররূপে তাহার অর্থ ব্যাখ্যা করিয়াছিলেন, তথাচ পাছে সকলে তত বড় গ্রন্থ পাঠ ও তাহার মৰ্ম্ম গ্রহণ করিতে ন পারে এই জন্ম তিনি উহার সার সঙ্কলন পূর্বক “বেদান্তসার” নামে এই গ্রন্থ প্রকাশ করিলেন। কোন শকে ইহা প্রকাশিত হইয়াছিল, তাহা আমরা ঠিক্‌ জানিতে পারি নাই, কিন্তু বোধ হয় যে, বেদান্তহুত্রের সঙ্গেই, অথবা অল্পকাল পরেই উহ প্রকাশ হইয়াছিল। ১৮১৬ খৃষ্টাব্দে, ১৭৩৮ শকে, উহার ইংরেজী অনুবাদ প্রকাশ হয়। খ্ৰীষ্টধৰ্ম্ম প্রচারক সাহেবেরা উহ। পাঠ করিয়া আশ্চৰ্য্য হইয়াছিলেন,এবং রচয়িতার পরিচয় ইয়োরোগে প্রচার করিয়াছিলেন। বেদান্তসার গ্রন্থে এই কয়েকটী বিষয় আছে। “ব্ৰহ্ম কি, কেমন, তাহ নির্দেশ করা যাইতে পারে না । জগৎকে উপলক্ষ করিয়া ব্ৰহ্ম নির্দেশ হয়। বেদ নিত্য নহে। আকাশ হইতে, প্রাণ বায়ু হইতে, জ্যোতি হইতে, প্রকৃতি হইতে, অণু হইতে, জীব হইতে, পৃথিবীর অধিষ্ঠাত্রী দেবত হইতে, স্বৰ্য্য হইতে, জগতের উৎপত্তি হয় নাই। নানা দেবতার জগৎকর্তৃত্ব কথন আছে, কিন্তু জগৎকর্তা এক। বেদে স্বতন্ত্র স্বতন্ত্র নানা দেবতা ও আকাশ প্রভৃতিকে ব্ৰহ্ম শব্দে বলা হইয়াছে, কিন্তু ব্ৰহ্ম অপরি