পাতা:মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত.djvu/৬৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৬৪ মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত। সংযোগ সহকারে রামমোহন রায়ের প্রতি অজস্র গালিবর্ষণ করিতে লাগিলেন। আমরা এক্ষণে দেখিতে পাই যে, খ্ৰীষ্টিয়ান পাদরীগণ বা দেশীয় অন্যান্য শিক্ষিত ব্যক্তিগণ কোন আন্দোলন উপস্থিত করিলে উহা হিন্দুসমাজের অন্তঃস্থল স্পর্শ করে না। রামমোহন রায় জাতীয়ভাবে দেশীয় শাস্ত্র অবলম্বন পূৰ্ব্বক স্বমতপ্রচারে প্রবৃত্ত হইয়াছিলেন বলিয়া উহ। হিন্দুসমাজকে বিচলিত করিয়াছিল। ত্রযুক্ত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়ের বিধবাবিবাহ বিষয়ক পুস্তক লইয়া যে সৰ্ব্বত্রব্যাপী আন্দোলন উপস্থিত হইয়াছিল, তাহারও মূল কারণ এই। পণ্ডিত দয়াননা সরস্বতীর ধৰ্ম্মপ্রচার প্রাচীনতন্ত্রের পৌত্তলিকদিগকেও কম্পিত . করিয়াছে ; দেশীয়ভাবে দেশীয় শাস্ত্রের দোহাই দেওয়াই উহার প্রকৃত কারণ। - শঙ্করশাস্ত্রীর সহিত বিচার । আমরা বলিয়াছি যে, আন্দোলন অত্যন্ত প্রবল হইয় উঠিল। রামমোহন রায়ের মতের প্রতিবাদ করিয়া চতুর্দিক হইতে পুস্তক সকল প্রকাশ হইতে লাগিল । নিদ্রিত হিন্দু সমাজ জাগ্রত হইয়া উঠিল। এই সময়ে “ইণ্ডিয়া গেজেট” রামমোহন রায়কে ‘ধৰ্ম্মসংস্কারক’ বলাতে শঙ্করশাস্ত্রী নামে মান্দ্রাজবাসী এক পণ্ডিত লেখেন যে, বেদ-বেদান্তে যে একমাত্র নিরাকার পরমেশ্বরের উপাসনা প্রতিপন্ন হইয়াছে, একথা সম্পূর্ণ সত্য; কিন্তু রামমোহন রায় যে উহা প্রথম প্রকাশ করিয়া একটা নুতন মতের সংস্থাপক হইলেন, ইহা সত্য নহে। তিনি আরও লিখিলেন যে, একমাত্র, নিরাকার পরব্রহ্মের উপাসন