পাতা:মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত.djvu/৬৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৬২ মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত। ও ইংরেজী উভয় ভাষাতেই হইয়াছিল। রামমোহন রায় তাহার প্রচারিত বিচারগ্রন্থে প্রতিপন্ন করেন যে, সমস্ত হিন্দুশাস্ত্রানুসারে ব্রহ্মোপাসনাই সার ও শ্রেষ্ঠ উপাসনা। ভট্টাচার্য্যের সহিত বিচারে রামমোহন রায় প্রাচীন শাস্ত্র সকল হইতে ভূরি ভূরি শ্লোক উদ্ধৃত করিয়া প্রতিপন্ন করি য়াছেন যে, পরমেশ্বর নিরাকার চৈতন্তস্বরূপ। কিন্তু কেবল শাস্ত্রীয় শ্লোক উদ্ধৃত করিয়াই তিনি ক্ষান্ত হন নাই। শাস্ত্রসম্মত অখণ্ডনীয় যুক্তিদ্বারা তাহার মত সমর্থন করিয়াছেন। অনন্ত পদার্থ কখন মূৰ্ত্তিবিশিষ্ট হইতে পারে না। পরমেশ্বর অনন্ত ; সুতরাং তাহার মূৰ্ত্তি থাকিতে পারে না। তিনি এ বিষয়ে বলিয়াছেন,—“যখন মূৰ্ত্তি স্বীকার কি ধ্যানে কি প্রত্যক্ষে করিবে, সে যদি অত্যন্ত বৃহদাকার হয়, তথাপি আকাশের মধ্যগত হইয়া পরিমিত এবং আকাশের ব্যাপ্য অবশ্য হইবেক, কিন্তু ঈশ্বর সৰ্ব্বব্যাপী হয়েন, কোন মতে পরিমিত এবং কাহার ব্যাপ্য নহেন।” অনেকে জিজ্ঞাসা করিয়া থাকেন যে, পরমেশ্বর নিরাকার ও চৈতন্তস্বরূপ হইলেও, তিনি যখন সৰ্ব্বশক্তিমান তখন ইচ্ছা করিলে মূৰ্ত্তি ধারণ করিতে পারিবেন না কেন ? ইহার উত্তরে রামমোহন রায় বলিয়াছেন যে, পরমেশ্বর জগতের স্বষ্টি স্থিতি প্রলয় বিষয়ে সৰ্ব্বশক্তিমান হইলেও তাহার আপনার স্বরূপনাশ করিবার শক্তি র্তাহার আছে, এমন স্বীকার করা * যাইতে পারে না। কেননা ব্ৰহ্ম যেমন জগৎকে বিনাশ করিতে পারেন, সেইরূপ তিনি আপনাকে আপনি বিনাশ করিতে পারেন, এরূপ কথা বলিলে ব্রহ্মের নাশের সম্ভাবনা রহিল।