পাতা:মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত.djvu/৬৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কলিকাতা বাস । లి কিন্তু যাহার নাশের সস্তাবনাও আছে, সে কখন ব্রহ্ম নহে। সুতরাং ব্রহ্ম সৰ্ব্বশক্তিমান বলিয়। মূৰ্ত্তি ধারণ করিতে পারেন, ইহ যুক্তি ও শাস্ত্রবিরুদ্ধ। রামমোহন রায় এবিষয়ে বলিয়াছেন,–“জগতের স্বস্ট্যাদি বিষয়ে ব্রহ্ম সৰ্ব্বশক্তিমান বটেন, কিন্তু র্তাহার আপনার স্বরূপের নাশ করিবার শক্তি র্তাহার আছে, এমত স্বীকার করিলে, জগতের স্তায় ব্ৰহ্ম হইতে ব্রহ্মের নাশ হওনের সম্ভাবনা সুতরাং স্বীকার করিতে হয়, কিন্তু যাহার নাশ সম্ভব, সে ব্ৰহ্ম নহে; অতএব জগতের বিষয়ে ব্ৰহ্ম সৰ্ব্বশক্তিমান হয়েন, আপনার স্বরূপের নাশে শক্তিমান নহেন। এই নিমিত্তই স্বভাবতঃ অমুৰ্ত্তি ব্ৰহ্ম কদাপি সমূৰ্ত্তি হইতে পারেন না। যেহেতু সমূৰ্ত্তি হইলে তাহার স্বরূপের বিপর্জয় অর্থাৎ পরিমাণ এবং আকাশাদির ব্যাপ্যত্ব ইত্যাদি ঈশ্বরের বিরুদ্ধ ধৰ্ম্ম সকল র্তাহাতে উপস্থিত হইবেক।” কেহ কেহ জিজ্ঞাসা করিয়া থাকেন যে, যদি পরমেশ্বর রূপ ধারণ করিতে না পারেন, তবে তিনি এই জগৎরূপে কেমন করিয়া প্রকাশ হইলেন ? তিনি বিশ্বরূপ ; সমুদয় বিশ্ব র্তাহার রূপ প্রকাশ করিতেছে। তবে কেমন করিয়া বলিব যে, তিনি রূপ ধারণ করিতে পারেন না ? বেদান্ত দর্শনের অনুগমন করিয়া রামমোহন রায় এই তর্কের খণ্ডন করিয়াছেন। তিনি বলিস্বাছেন যে, রঞ্জতে সর্পভ্রম হয়। রজু সত্য, সর্প মিথ্যা। সেইরূপ বেদান্তের মতে ব্ৰহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা। ব্ৰহ্ম নিরাকার চৈতন্যময়, জগৎরূপবিশিষ্ট । যাহা রূপবিশিষ্ট তাহ ভ্ৰাস্তি, মায়ামাত্র, মানুষের মনের অজ্ঞানত মাত্র। রূপ, রস,