পাতা:মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত.djvu/৬৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৬৪ মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত । গন্ধ, স্পর্শ, শব্দের বাস্তব সত্তা নাই, সুতরাং রূপ ইত্যাদি জীবের মনেতেই রহিয়াছে, উহা ব্ৰহ্ম স্বরূপ নহে। রামমোহন রায় বলিয়াছেন,—“যাবৎ নামরূপময় মিথ্যা" জগৎ সত্যস্বরূপ ব্ৰহ্মকে অবলম্বন করিয়া সত্যের স্থায় দৃষ্ট হইতেছে। যেমন মিথ্যা সর্প সত্য রজুকে অবলম্বন করিয়া সত্যরূপে প্রকাশ পায়, বস্তুতঃ সে রজু সর্প হয়, এমত নহে। সেই রূপ সত্যস্বরূপ যে ব্রহ্ম, তিনি মিথ্যারূপ জগৎ বাস্তবিক হয়েন না, এই হেতু বেদান্তে পুনঃ পুনঃ কহেন যে, ব্ৰহ্ম বিবর্তে অর্থাৎ আপন স্বরূপের ধ্বংস না করিয়া প্রপঞ্চস্বরূপ দেবাদি স্থাবর পৰ্য্যন্ত জগদাকারে আত্মমায়াদ্বারা প্রকাশ পায়েন। কিরূপে এখানকার পণ্ডিতেরা লৌকিক কিঞ্চিৎ লাভের নিমিত্তে তাহাকে পরিচ্ছিন্ন বিনাশযোগ্য মূৰ্ত্তিমান কহিতে সাহস করিয়া ব্রহ্মস্বরূপে আঘাত করিতে উদ্যত হয়েন ? ইহা হইতে অধিক আশ্চৰ্য্য অন্ত আর কি আছে যে, ইঞ্জির হইতে পর যে মুন}, মন হইতে পর যে বুদ্ধি, বুদ্ধি হইতে পর যে পরমাত্ম, তাহাকে বুদ্ধির অধীন যে মন, সেই মনের অধীন যে পঞ্চেক্ৰিয়, তাহার মধ্যে এক ইন্দ্রিয় যে চক্ষু, সেই চক্ষুর গোচর যোগ্য করিয়া কহেন ?” অন্য এক স্থলে ভট্টাচাৰ্য্য প্রশ্ন করিয়াছেন, “যদি সৰ্ব্বত্র ব্ৰহ্মময় মূৰ্ত্তি না হয়, তবে ঈশ্বরের স্বঃ এক এক পদার্থকে ঈশ্বর বোধ করিয়া উপাসনা করিলেও ফলসিদ্ধি অবশু হয়। আপনার বুদ্ধিদোষে বস্তুকে যথার্থরূপে না জানিলে ফলসিদ্ধির হানি হইতে পারে না; যেমন স্বপ্নেতে মিথ্যাব্যাঘ্ৰাদি দর্শনে বাস্তব ফল প্রত্যক্ষ