পাতা:মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত.djvu/৭৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৭৪ মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত। এরূপ লিখিবাতে আশ্চৰ্য্য কি, যেহেতু তাহার এ বোধও নাই যে কুলাচার সৰ্ব্বথা ব্ৰহ্মজ্ঞানমূলক হয়েন। সৰ্ব্বত্র সংস্কার বিষয়ে বামাচারের মন্ত্র এই হয় ( একমেব পরংব্ৰহ্ম স্থল স্বগ্নময়ং ধ্ৰুবং ) এবং দ্রব্যশোধনে সৰ্ব্বত্র বিধি এই (সৰ্ব্বং ব্ৰহ্মময়ং ভাবয়েৎ) এবং কুল ধাতুর অর্থ সংস্ত্যান, অর্থাৎ সমূহ অর্থে বর্তে, অতএব সমূহ যে বিশ্ব তাহা কুল শব্দের প্রতিপাদ্য যাহা মহাবাক্যের তাৎপৰ্য্য হইয়াছে। ইত্যাদি • উক্ত গ্রন্থাবলীর ৩৩১ পৃষ্ঠায় রামমোহন রায় বলিতেছেন – ১৬২ পৃষ্ঠের শেষে লিখেন যে “সুশীল স্বজনদিগের বৃথা কেশচ্ছেদন, স্বরাপান, সম্বিদা ভক্ষণ, যবনীগমন ও বেষ্ঠাসেবন সৰ্ব্বকালেই অসম্ভব”। উত্তর। এ যথার্থ বটে, অতএব ধৰ্ম্মসংহারকে যদি ইহার ভূরি অনুষ্ঠান দৃষ্ট হয়, তবে দুর্জন পদ প্রয়োগ তাহার প্রতি সঙ্গত হয় কি না? শৈবধৰ্ম্মে গৃহীত স্ত্রীকে পরস্ত্রী কহিয়া নিন্দ করিয়াছেন, অতএব জিজ্ঞাসি যে, বৈদিক বিবাহে বিবাহিত স্ত্রীসঙ্গে পাপাভাবে কি প্রমাণ ? সেও বাস্তবিক অৰ্দ্ধাঙ্গ হয় না, যদি স্মৃতি শাস্ত্র প্রমাণে বৈদিক বিবাহিত স্ত্রীর স্ত্রীত্ব ও তৎসঙ্গে পাপাভাব দেখান, তবে তান্ত্রিক মন্ত্র গৃহীত স্ত্রীর স্বস্ত্রীত্ব কেন না হয়, শাস্ত্ৰবোধে স্মৃতি ও তন্ত্র উভ যুই তুল্যরূপে মান্ত হইয়াছেন। একের মান্তত অন্যের অমান্তত হইবাতে কোন যুক্তি ও প্রমাণ নাই।” পথ্যপ্রদান গ্রন্থের শেষে তন্ত্রোক্ত অনুষ্ঠান অর্থাৎ স্বরাপান ও শৈববিবাহ বিষয়ে বিচার সমাপ্ত করিয়া এইরূপে উপসংহার করিতেছেন,—“এই দ্বিতীয় উত্তরের সমুদায়ের তাৎপৰ্য্য এই