পাতা:মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত.djvu/৮১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৭৬ মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত। পুস্তকে একটিও কর্কশ বাক্য নাই। ইংরেজী বাঙ্গালা প্রভৃতি ভাষায় তাহার প্রণীত রাশি রাশি বিচারগ্রন্থ পাঠ করিয়া কেই তন্মধ্য হইতে বিপক্ষের প্রতি একটুও অভদ্রবাক্য বাহির করিয়া দিতে পারে না। প্রতিবাদীর সহস্র কটুকাটব্যেও তাহার গভীর চিত্ত বিচলিত হইত না। ঘোরতর বিচারের সময়েও র্তাহার প্রকৃতি লেশমাত্র উষ্ণ হইত না । তাহার নিকট অনেক তর্কালঙ্কার, তর্কবাচস্পতি, বিচারার্থী হইয়া আসিতেন। আমরা শুনিয়াছি যে, ঘোরতর তর্কযুদ্ধের সময়েও তাহার স্বাভাবিক গাম্ভীর্য্যের লাঘব হইত না । বিপক্ষ হয় ত ক্রোধে অন্ধপ্রায় হইয়া কতই অন্যায় কথা উচ্চারণ করিতেছে, অথচ রামমোহন রায়ের কোমল ধীরভাব কিছুতেই বিলুপ্ত হইতেছে না। তিনি ক্রমে পরিশেষে বিপক্ষকে সম্পূর্ণরূপ নিরুত্তর ও পরাস্ত করিয়া দিতেছেন। কি মৌখিক, কি লিখিত বিচারে, আত্মপক্ষ সমর্থন জন্য যতটুকু বলা আবশ্বক, তিনি তাহার অধিক কিছুই বলিতেন না। বাস্তবিক, তর্কের সময়ে ধৈর্য্যরক্ষা করিতে অতি অল্প লোকেই শিক্ষা করেন। “আমার নিজের জয় চাই না, উপাসনার শাস্ত্রীয়তা ও ঔচিত্য এবং রামমোহন রায়ের ও তাহার অনুবত্তাগণের বেদজ্ঞানবিহীনতাও বিবিধ ব্যবহারদোষ প্রদর্শন করিয়া এক গ্রন্থ প্রকাশ করেন। রামমোহন রায় ঐ সকল গ্রন্থের খণ্ডনার্থ উত্তর-গ্রন্থ সকল প্রকাশ করিয়াছিলেন। সৰ্ব্বশেষে এই পথ্যপ্রদান গ্রন্থ প্রস্তুত হয়। ইহা সকল বিচারগ্রন্থ অপেক্ষা বৃহৎ । ইহাতে প্রায় তাবৎ বিচারগ্রন্থের মর্থ পাওয়া যায়।”

  • স্থানে স্থানে দুই একটা মিষ্ট বিক্ৰপ আছে; পুস্তকের বিজ্ঞাপনে লিখিত হইয়াছে —“আমাদের নিলার উদেশে ধৰ্ম্মসংহারক আপন প্রত্যুত্তরের নাম “পাষণ্ডপীড়ন” রাখেন : তাহাতে বাগ দেবতা পঞ্চমী সমাসের দ্বারা ধৰ্ম্মসং হারকের প্রতি যাহা যথার্থ তাহাই প্রয়োগ করিয়াছেন।”