পাতা:মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত.djvu/৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৪ মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের জীবনচরিত । স্থান। চৈতন্তের জন্ম ও দ্যায়দর্শনের গৌরববিকাশের জন্য যে নবদ্বীপ চিরপ্রসিদ্ধি লাভ করিয়াছে, তাহা রাঢ়ভূমির অন্তর্গত। যে সকল মহাত্মাদিগের দ্বারা বাঙ্গালাভাষা ও সাহিত্য উন্নতি লাভ করিয়াছে, তাহাদিগের অধিকাংশ ভাগীরথীর পশ্চিমকুলবাসী। “ক্ষিতীশবংশাবলিচরিত” লেখক + বলেন, “আদি কবি বিদ্যাপতি, প্রাচীন কবি চণ্ডীদাস, চৈতন্য চরিতামৃত রচয়িতা কৃষ্ণদাস কবিরাজ, চওঁীকাব্য রচয়িতা কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম চক্ৰবৰ্ত্তী, মহাভারতের অনুবাদক $ কাশীরাম দাস, শিবসংকীর্তন রচয়িত রামেশ্বর ভট্টাচাৰ্য্য, এবং রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাসদ অন্নদামঙ্গল রচয়িত ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর প্রভৃতি সকল কবিগণই ভাগীরথীর পশ্চিমপারবাসী। ভাগীরথীর পূৰ্ব্বপারে কেবল চৈতন্যমঙ্গল কাব্য রচয়িত বৃন্দাবন দাস, রামায়ণ কাব্য রচয়িতা কৃত্তিবাস, এবং বিদ্যাসুন্দর কালী ও কৃষ্ণকীৰ্ত্তন রচয়িত রামপ্রসাদ সেন প্রাচুভূত হন। কিন্তু এই তিন জন কবির মধ্যেও প্রাচীন কবি বৃন্দাবন দাসের পিতার বাসস্থান ভাগীরথীর পশ্চিম পারে ছিল। নবদ্বীপ নিবাসী শ্ৰীনিবাস পণ্ডিতের দুহিত নারায়ণীর গর্ভে বৃন্দাবন দাসের জন্ম হয়। বঙ্গভাষায় গদ্য লিখিবার যে বিশুদ্ধ প্রণালী চলিত হইয়াছে, তাহাও পরপরবর্তী প্রদেশ বিশেষের মহোদয়গণ

  • কৃষ্ণনগরের মহারাজার দেওয়ান পরলোকগত শ্রদ্ধাস্পদ কাৰ্ত্তিকেয়চন্দ্র রায় ।

& কাশীরাম দাস মহাভারত অমুবাদ করেন নাই। তিনি সংস্কৃত জানি তেন না। বোধ হয়, কথক প্রভৃতির মুখে শুনিয়া তিনি পদ্য রচনা করিতেন। তিনি নিজে বলিতেছেন —“শ্ৰুত্তমাত্র লিখি আমি রচিয়া পয়ার।"