পাতা:মহাভারতীয় বৃহৎ ভীষ্মপর্ব্ব - কাশীরাম দাস.pdf/১১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

বৃহৎ ।

শয়॥ দুই দল মধ্যে রথ রাখহ ক্ষণেক। যতেক বিপক্ষগণে দেখিব প্রত্যেক॥ কাহার সহিত রণ হইবে প্রথম। কা হেই যুদ্ধ হবে কে কার সম॥ দুই দল মধ্যে রথ রাখিলেন হরি। একে একে ধময় দেখেন বিচারি। সর্ব্ব অগ্রে পিতামহ আ চার্য মাতুল। ভ্রাতৃপুত্র পৌত্র দেখিলেন সমতুল॥ বন্ধু সব দেখিয়া বিষণ্ণ হৈল মন। পার্থের অবশ অঙ্গ মলিন বদন। শরীরে রোমাঞ্চযুক্ত কাপে ঘনঘন। হাতে হৈতে খসিয়া পড়িল শরাসন। সরুণে কৃষ্ণেরে কহেন ধনঞ্জয়। নিজ পরিবার বধ উচিত না হয়। দেখিলাম যত বন্ধু অমাত্য সকল। ইহা সবা মারি রণে নাহি কোন ফল॥ বিফল জীবন মম বাঁচি কোন সুখ। গুরু বন্ধু মারিয়া দেখিব কার মুখ। রাজ্যে কার্য নাহি মম জীবন অসার। কাহার নিমিত্তে কার বংশের সংহার। গোত্র বধে মহাপাপ হইবে নিশ্চয়। রাজ্যলোতে কোন হেতু পাপের সঞ্চয়॥ রাজ্যে কার্য্য নাহি মম বনবাসে যাব। জ্ঞাতি নাশ বন্ধু নাশ সহিতে নারিব॥ এত বলি তজুন ত্যজিয়া ধনু শর। বিমুখ হইয়া বসিলেন রথোপর॥ কৃষ্ণ তারে প্রবোধিয়া বলেন বচন। কি কারণে ক্ষত্রধর্ম্ম কর বিসর্জন॥ অহঙ্কার করিয়া আইথ যুদ্ধ স্থান। সম্মুখ সংগ্রামে কেম ছাড় ধনুর্বাণ জ্ঞাতিবধ পাপ যদি ভাব ধনঞ্জয়। কেবির কহিবে পার্থ হইল সময়! কে কারে মারিতে পারে কেবা কার অরি। সবারে সংহারি আমি আমি সব করি। কর্ম্ম অনুসারে লোক করে গভাগত। যাহার যেমত কর্ম্ম পায় সেই পথ॥ যেন বাল্য যৌবন বাদ্ধ ক্য উপস্থান। তেমত জানিহ তুমি সকল সমান। জীর্ণবস্ত্র ত্যজি যথা নব্যবস্ত্র পরে। তথা এক তনু ছাড়ি অ নেতে সঞ্চারে॥ শরীর বিনাশ হয় নহে জীবনাশ। শুন কহি ধনঞ্জয় করিয়া প্রকাশ। যত সব বস্তু দেখ চতুর্দশ লোকে। সকল আমার মূর্ত্তি জানাই তোমাকে। সকল বৃক্ষের মধ্যে আমি যে অশ্বথ। নদীমধ্যে সুরনদী আমি জান তথ্য॥ ঋষি মধ্যে আমি যে নারদ মহাশয়। মুনিমধ্যে কপিল আমার বর্ণ