বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মহাভারত - আদিপর্ব্ব - জগন্মোহন তর্কালঙ্কার.pdf/১৮

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
মহাভারত।


যুক্ত, বেদার্থ-বিভূষিত, ইতিহাসাত্মক-মহাভারতের গ্রন্থার্থ-সংযুক্ত, নানাশাস্ত্র-সম্মত, সংস্কৃত, পবিত্র-কথা যথাবিধি কীর্ত্তন করেন; আমরা অদ্ভুত কর্ম্মকারি-বেদব্যাস-প্রণীতা চতুর্ব্বেদার্থ-প্রতিপাদিনী, পাপ-ভয়-নিবারিণী, সেই পুণ্যসংহিতা শ্রবণ করিতে বসনা করি।

 উগ্রশ্রবাঃ কহিলেন, যিনি বিশ্বের আদিপুরুষ ও ঈশ্বর, যাঁহার উদ্দেশে অনেকে হোম ও স্তব করিয়া থাকেন, যিনি অদ্বিতীয়, সত্য, অবিকৃত, ব্যক্তাব্যক্তত্মক, সনাতন, ব্রহ্মস্বৰূপ, যাঁহার সৃষ্ট বিশ্ব অসৎ, সদসৎ ও সদসৎ হইতে ভিন্ন, যিনি স্থূল ও সূক্ষ্ম নিখিল বস্তুর সৃষ্টি করিয়াছেন, সেই পরম পুরাণ, অবিনাশি, মঙ্গলবীজ, মঙ্গলমূর্তি, বিশ্বব্যাপি, বিশ্ববন্দ্য, দোষহীন, বিশুদ্ধস্বভাব, ইন্দ্রিয়াধীশ, চরাচর-গুরু হরিকে প্রণাম করিয়া সর্ব্বলোক-পূজিত, মহানুভাব, অদ্ভুতকর্ম্মকারি-মহর্ষি বেদব্যাসের পবিত্র মত কীর্ত্তনে প্রবৃত্ত হই।

 ভূমণ্ডলে কোন কোন পণ্ডিতেরা এই ইতিহাস কীর্ত্তন করিয়াছেন, কেহ কেহ সম্প্রতি কীর্ত্তন করিতেছেন, ভবিষ্যৎ কালেও অনেকে কীর্তন করিবেন। অশেষ-জ্ঞানদায়ক এই ইতিহাস ত্রিলোকে প্রশংসিত হইয়াছে, যেহেতু ব্রাহ্মণেরা ইহাকে সংক্ষেপে ও বিস্তারৰূপে ধারণ করিয়া আসিতেছেন। এই মহাভারতগ্রন্থ, নানাবিধ ছন্দে ও উত্তম উত্তম শব্দে এবং দৈব ও মানুষ উভয় লোক-সিদ্ধ শব্দশক্তি-সমূহে ভূষিত হইয়াছে; অতএব পণ্ডিতেরা ইহার অতিশয় সমাদর করেন।

 এই জগৎ, দশদিকে মহান্ধকারে আবৃত আলোকশূন্য ও নিষ্প্রভ ছিল, সৃষ্টির প্রাক্কালে প্রাণিদিগের উৎপত্তির অক্ষয়-বীজস্বৰূপ এক বৃহদণ্ড উৎপন্ন হইল, পণ্ডিতেরা তাহাকেই মহৎ ও দিব্য কারণ বলিয়া উল্লেখ করেন। শ্রুত হওয়া যায়, যিনি অদ্ভুত, অব্যক্ত, অচিন্ত্যনীয়, সর্ব্বত্র-সমভাবাপন্ন, অনির্ব্বচনীয়, সত্যসনাতন জ্যোতির্ম্ময়, সেই পরব্রহ্ম ঐ

অণ্ডে সূক্ষ্ম-কারণৰূপে প্রবিষ্ট হইয়াছিলেন। যাঁহা হইতে লোকের পিতামহ, অদ্বিতীয় প্রভু, প্রজাপতি-ব্রহ্মা ও বিষ্ণু এবং রুদ্র প্রাদুর্ভূত হইলেন। অনন্তর স্বায়ম্ভুবমনু, বশিষ্ঠ, পরমেষ্ঠী, দশসংখ্যক-প্রচেতাঃ, দক্ষ, দক্ষের সপ্তপুত্র, এই এক-বিংশতি সংখ্যক প্রজাপতি জন্মিলেন। সমস্ত ঋষিরা যাঁহাকে যোগবলে দর্শন করেন, সেই বিরাট্-পুরুষ ও বিশ্বদেবগণ, দ্বাদশ-আদিত্য, অষ্টবসু, অশ্বিনীকুমারদ্বয়, যক্ষগণ, সাধ্যগণ, পিশাচগণ, গুহ্যকগণ এবং পিতৃগণ উৎপন্ন হইলেন। সর্ব্বগুণ-সম্পন্ন, বিদ্বান্ ও প্রশান্তচিত্ত-ব্রহ্মর্ষিগণ এবং রাজর্ষিগণ জন্ম গ্রহণ করিলেন। এবং যথাক্রমে জল, পৃথিবী, বায়ু, আকাশ, দিক্, সংবৎসর, ঋতু, মাস, পক্ষ, দিবা, রাত্রি ও লৌকিক আর আর সমস্ত পদার্থ সৃষ্ট হইল।

 স্থাবর জঙ্গমাত্মক পরিদৃশ্যমান এই জগৎ প্রলয়কালে পুনর্ব্বার তিরোহিত হইবে, যেমন বসন্তাদি প্রত্যেক ঋতুতে, ঋতু-চিহ্ন-স্বৰূপ বিবিধ কুসুমাদি আবির্ভূত হইয়া পুনর্ব্বার তিরোহিত হয়, সেইৰূপ যুগারম্ভে সমুদায় পদার্থ সৃষ্ট হইয়া প্রলয়কালে পুনর্ব্বার বিলুপ্ত হইয়া যায়। এইৰূপে অনাদি, অনন্ত, সৃষ্টি-সংহার-কারি সংসার-চক্র নিয়ত পরিবর্ত্তিত হইতেছে।

 ত্রয়স্ত্রিংশৎ সহস্র, ত্রয়স্ত্রিংশৎশত ও ত্রয়স্ত্রিংশৎ সংখ্যক দেবতা সংক্ষেপে সৃষ্ট হইলেন। বৃহদ্ভানু, চক্ষুঃ, আত্মা, বিভাবসু, সবিতা, ঋচীক, অর্ক, ভানু, আশাবহ, রবি, বিবস্বান্, মহ্য, ইহাঁরা অদিতির পুত্র। তন্মধ্যে মহ্য সর্ব্ব-কনিষ্ঠ, তাঁহার পুত্র দেবভ্রাট্‌, তৎ পুত্র সুভ্রাট্‌; সুভ্রাটের বিদ্যাসম্পন্ন বহুপুত্রশালী পুত্রত্রয় জন্মিলেন; তাঁহাদের নাম দশজ্যোতিঃ, শতজ্যোতিঃ ও সহস্রজ্যোতিঃ। মহানুভাব দশজ্যোতির দশসহস্র পুত্র, শতজ্যোতির লক্ষপুত্র ও সহস্রজ্যোতির দশলক্ষ সন্তান; তাঁহাদের হইতেই কুরুবংশ, যদুবংশ, ভরতবংশ, যযাতিবংশ, ইক্ষ্বাকুবংশ এবং অন্যান্য বহুসংখ্যক রা-