বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মহাভারত - কাশীরাম দাস.pdf/১৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
আদিপর্ব্ব।
যমেরে কহিল দ্রুত সব বিবরণ।

অৰ্দ্ধ আয় স্ত্রীকে দিল ভ্রমতি নন্দন।
ধর্ম্মরাজ বলে জীউক তোমার গৃহিণী।
যাও যাও নিজালয় কহে দ্বিজ ণি।
ধর্ম্ম বলে ভ্রমদুরা জীবন পাইল।
দেখিয়া ভ্রমতি পুত্র সানন্দ হইল॥
প্রতিজ্ঞা করিল গুরু ক্রোধে ততক্ষণে।
মারিব ভূজঙ্গ যত দেখিব নয়নে।
হাতে দণ্ড ভ্রমে ৰুৰু সৰ্প অন্বেষণে।
মরিল অনেক সর্প না যায় গণনে॥
এক দিন ভ্রমে মুনি অরণ্য ভিতর।
দেখিলেক মহাসর্প অতি ভয়ঙ্কর॥
সৰ্প দেখি দণ্ড লৈয়া যায় মারিবারে।
দেখিয়া তুণ্ডুভ ডাকি বলে উচ্চৈঃস্বরে॥
কি দোষ করিনু আমি তোমার সদনে।
অহিংসক জনে মার কিসের কারণে॥
ৰুৰু বলে দোষ গুণ না করি বিচার।
সর্প পাইলে সংহারিব প্রতিজ্ঞা আমার।
ডুণ্ডুভ বলেন আমি নাম মাত্র সাপ।
অহিংসক হিংসনে জন্মায় মহাপাপ।
এতেক শুনিয়া ৰুৰু ভাবে মনে মন।
জিজ্ঞাসিল কহ তুমি কোন মহাজন॥
সৰ্প বলে আমি পূর্ব্বে মুনির কুমার।
চিত্রসেন নাম সখা ছিলেন আমার॥
তালপত্র সর্প এক করিয়া রচন।
সখারে দিলাম আমি হাস্যের কারণ॥
সৰ্প দেখি মোহ গেল মুনির তনয়।
ক্রোধ করি শাপ মোরে দিল অতিশয়॥
হীনবীর্য্য সৰ্প হৈয়া থাকহ কাননে।
পূনরপি বলে তোরে করুণা বচনে॥
অচিরে হইবে যুক্ত শুন প্রাণ সখা।
ৰুৰু সহিত যত দিনে হবে দেখা॥
ভ্রমতির পুত্র তুমি ভৃগুবংশে জন্ম।
দ্বিজ হৈয়া কর কেন ক্ষত্রিয়ের কর্ম্ম॥
ব্রাহ্মণের কর্ম্ম নহে লোকের হিংসন।
অল্প দোষে দেখ মোর দুর্গতি লক্ষণ॥
অহিংসা পরম ধর্ম্ম করছ পালন।
ভয়ার্ত্ত জনেরে রক্ষ করিয়া যতন॥
পূর্ব্বে রাজা জন্মেজয় সর্পযজ্ঞ কৈল।
দয়ার সর্গে কুল ব্রাহ্মণে রাখিল॥
আস্তিক নামেতে দ্বিজ জরৎকারু সুত।

যাহার চরিত্র কথা শুনিতে অদ্ভুত॥
ৰুৰু বলে কহ শুনি আস্তিক আখ্যান।

কি মতে নাগের কুল কৈল পরিত্রাণ॥
কি কারণে সর্পযজ্ঞ কৈল জন্মেজয়।
কহ শুনি মুনিবর খণ্ডুক বিস্ময়॥
মুনি কহে সেই কথা কহিতে বিস্তার।
শুনিবারে চিত্ত যদি আছয়ে তোমার॥
মুনিগণে জিজ্ঞাসিল কহিবে সকল।
আজ্ঞা দেও যাব আমি আপনার স্থল॥
এত বলি দিব্য মূর্ত্তি হৈল ততক্ষণে॥
অন্তৰ্দ্ধান হইয়া মুনি গেল যথাস্থানে॥
বিস্ময় জন্মিল ৰুৰু মনোদুঃখী তাপে।
আপনার গৃহে আসি জিজ্ঞাসিল বাপে।
ভ্রমতি বলেন আমি সব তাহা জানি।
আস্তিষ্কের উপাখ্যান অদ্ভুত কাহিণী॥
মহাভারতের কথা অমৃতের ধার।
শ্রবণের সুখ ইহা বিনা নাহি আর॥
কাশীরাম দাসের প্রণাম সাধুজনে।
পাইবা পরম প্রীতি যাহার শ্রবণে॥
জিজ্ঞাসিল ৰুৰু তবে জনকের স্থান।
ভ্রমতি বলেন শুন অদ্ভুত অধ্যাম॥
জটাচার্ব্ব বংশে জন্ম জরৎকাৰু মুনি।
যোগেতে পরম যোগী ত্রিজগতে জানি॥
স্বচ্ছন্দে ভ্রমিয়া গেল দেশ দেশান্তরে।
উলঙ্গ উন্মত্ত বেশ সদা অনাহারে॥
এক দিন অরণ্যে ভ্রময়ে তপোধন।
এক গোটা গর্ত্ত দেখে অদ্ভুত কথন॥
তথ্য মধ্যে দেখয়ে মনুষ্য কত জন।
এক উলা মূল ধরিয়াছে সর্ব্ব জন॥
অপূর্ব্ব দেখিয়া জিজ্ঞাসিল জরৎকাৰু।
কি কারণে এত দুঃখ তোমা সবাকার॥
যে উলার মূল ধরিয়াছ সর্ব্বজনে।
মূষিক খুরিছে মুল না দেখ নয়নে॥
এক গোটা মুল মাত্র দৃঢ় আছে তৃণে।
এখনি ছিঁড়িবে ইহা উন্দুর দংশনে॥
তবেত পড়িবে সবে গর্ত্তের ভিতর।
এত শুনি নৃপগণ করিল উত্তর॥
জটাচার্ব্ব বংশে আমা সবার উৎপত্তি।
নিবংশ হইল তেঁই হুইল হেন গতি॥
ঋষি বলে কেহ বংশে নাহিক তোমার।
বংশেতে জন্মিয়া করে সবার উদ্ধার॥
পিতৃগণ বলে মাত্র আছে এক জন।

মুর্খ দুরাচার সেই বংশ অভাজন॥