কোথায় রহিব আজ্ঞা দেহ দেবরাজ॥
এতেক কৰুণা যদি করিল বৰুণ।
শুনিয়া কৰুণাময় হৈল সকৰুণ॥
আশ্বাসিয়া বলেন হরি শুন জলেশ্বর।
না করিও চিন্তা কিছু না করিহ ডর।
দুর্ব্বাসার শাপে লক্ষ্মী ছাড়ি নিজ স্থল।
তিন পুর ত্যজি প্রবেশিল সিন্ধূজল॥
লক্ষ্মী হত হইয়া কষ্ট পাইল সর্ব্ব জন।
সমুদ্র মেথিল সবে তথির কারণ॥
লক্ষ্মী যদি হইল এবে মথনে কি কায।
বিশেষ তোমার ক্লেশ হইল দ্বিজরাজ॥
এত বলি মথন করিল নিবারণ।
শুমি হৃষ্ট হইল বৰুণ ততক্ষণ॥
সর্ব্ব রত্ন সার সেই ত্রৈলোৰু্য দুর্লভ।
গোবিন্দের গলে মণি দিলেন কৌস্তুভ॥
চন্দ্র সূর্য্য প্রভা যিনি যাহার কিরণ।
নারায়ণ বক্ষে মণি হইল শোভন॥
লক্ষ্মী দিয়া প্রাণমিয়া গেলেন জলেশ।
মথন নিবারি চলিলেন হৃষীকেশ॥
মহাভারতের কথা অমৃত লহরী।
কাশী কহে শুনিলে তরি যে ভাববারি॥
স্বরাসুর যক্ষ রক্ষ ভুজঙ্গ কিন্নর।
সবে সিন্ধু মথিল না জানে মাত্র হর॥
দেখিয়া নারদ মুনি হৃদয়ে চিন্তিত।
কৈলাসে হরের ঘরে হৈলা উপনীত।
প্রণমিয়া শিব দুর্গা দোঁহার চরণ।
আশীষ করিয়া দেবী দিলেন আসন॥
নারদ বলেন গিয়াছিনু সুরপুরে।
শুনিলু মথিল সিন্ধু যত সুরাসূরে॥
বিষ্ণু পাইল কমলা কৌস্তুভমণি আদি।
ইন্দ্র উচ্চৈঃশ্রবা ঐরাবত গজনিধি॥
নানা রত্ন লোকে পায় মেঘে পায় জল।
অমৃত অমরবৃন্দ কল্পতক ফল॥
নানা রত্ন মহৌষধি পায় নরলোক।
এই হেতু হৃদয়ে জন্মিল বড় শোক॥
স্বর্গ মর্ত পাতালে বৈসেন যত জনে।
সবে ভাগ পাইল কেবল তোমা বিনে॥
সে কারণে তত্ব লইতে আইলাম হেথা।
সবার ঈশ্বর তুমি বিধাতার ধাতা॥
তোমারে না দিয়া ভাগ সবে বাঁটি নিল।
শুনি কিছু উত্তর না কৈল ত্রিলোচন॥
দেখি ক্রোধে কম্পান্বিতা কহে ম্রিলোচনা।
নারদেরে কহে হয়ে করিয়া ভৎসনা॥
কাহারে এতেক বাক্য বল মুনিবর।
বৃক্ষেরে বলিলে যেন না পায় উত্তর।
কষ্ঠেতে হাড়েক মাল বিভূষণ যার।
কৌস্তুভাদি মণি রত্নে কি কায তাহার॥
কি কায চন্দনে যার বিভূষণ ধূলী।
অমৃতে কি কায তার ভক্ষ্য সিদ্ধি গুলি॥
মাতঙ্গে কি কায তার বলদ বাহন।
পারিজাত কি কায ধূতুরা আভরণ॥
সকল চিন্তিয়া মোর অঙ্গ জর জর।
পূর্ব্বের বৃত্তান্ত সব জান মুনিবর॥
জানিয়া উহারে দক্ষ পূজা না করিল।
সেই অভিমানে তনু ত্যজিতে হইল॥
দেবী বাক্য শুনি হাসি বলে ভগবান।
যে বলিলা হৈমবতী কিছু নহে আন॥
বাহন ভূষণে মোর কিবা প্রয়োজন।
আমি লই যাহা তা না লয় অন্য জন॥
ভক্তিতে করিয়া সব মাগিলেন দাস।
অম্লান অম্বর পট্টাম্বর দিব্য বাস॥
ঘৃণা করি ব্যাঘ্রচর্ম্ম কেহ না লইল।
সেই মোর বাঘাম্বর পরিতে হইল॥
অগৌর চন্দন নিল কুঙ্কুম কস্তুরী।
বিভুতি না লয় সেই বিভুষণ ধরি॥
মণি রত্ন হার লইল মুকুতা প্রবাল।
কেহ না লইল সেই আছে হাড়মাল॥
ধূতুরা কুসুম নাহি লয় কোন জন।
ভেঞি অঙ্গে ধুতুরা করিমু বিভূষণ॥
রথ গজ লইল বাহন পরিচ্ছদ।
কেহ নাহি লয় সেই আছয়ে বলদ॥
প্রথমেতে দক্ষ মোরে জানি না পূজিল।
অজ্ঞান তিমিরে যক্ষ মোহিত হইল॥
তেঁই মোরে না জানিয়া পুজা না করিল।
তার সমুচিত দণ্ড সেইক্ষণে পাইল।
পশুর সদৃশ হৈল ছাগলের মূক্ত।
মূত্র পুরীযেতে পূর্ণ হৈল যজ্ঞকুণ্ড॥
ব্রহ্মা বিষ্ণু ইন্দ্র যম বৰুণ তপন।
মোরে না পূজিয়া দেবী আছে কোন জন॥
দেবী বলে দারা পুত্র গৃহী যেই জন।