বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:মহাভারত - কাশীরাম দাস.pdf/২৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
আদিপর্ব্ব।
১১

ব্রহ্মার পঞ্চম শির নখে ছেদি দিল।
বহুকাল সেবি বিষ্ণু অভয় পাইল॥
ইন্দ্র যম বরুণ কুবের হুতাশন।
সব লোকপাল করে মম আরাধন॥
জ্ঞানযোগে মৃত্যু আমি করিলাম জয়।
আমার নয়ানানলে কাম ভস্ম হয়॥
মহামায়া বল যারে ত্রৈলোক্য মোহিনী।
বিষ্ণু অংশ জান গঙ্গা ত্রিপথ গামিনী॥
দাসী হয়ে সবে মোর চরণ অম্বুজে।
মনোরথ লভে যে আমার পায় ভজে॥
ত্যজ মান মনোরমা করহ সম্ভাষ।
আমারে ভজিলে হবে সিদ্ধ অভিলাষ॥
কন্যা বলিলেন যোগী জানিনু এক্ষণে।
তোমারে মহেশ প্রায় বলে সর্ব্বজনে॥
ব্যর্থ জপ তপ তোমার ব্যর্থ যোগ জ্ঞান।
ব্যর্থ তোর পঞ্চমুখ রামনাম গান।
ব্যর্থ জটা ভস্ম মাখা ব্যর্থ তুমি যোগী॥
ভগুতা করিয়া লোকে করাহ বৈরাগী॥
কামিনী দেখিয়া এত হইলা বিহ্বল।
কামদগ্ধ কৈলে কোন লাজে বল বোল॥
হর বলেন মনোহরা কর অবধান।
তব অঙ্গ দেখি মম হরিলেক জ্ঞান॥
করিলাম এক কাম দহন নয়নে।
কোটি কাম জ্বলিতেছে তব চক্ষুকোণে॥
তপ জপ যোগ জ্ঞান নিবৃত্ত বৈরাগ্য।
এ সকল কর্ম্মে যদি হয় শ্রেষ্ঠ ভাগ্য॥.
এই বাঞ্ছা হয় তুমি করহ পরশ।
আলিঙ্গন দেহ তুমি হইয়া সরস॥
যতেক করিমু তপ জপ রামনাম।
জটা ভস্ম দিগ্ধাস শ্মশানের ধাম॥
তার সমুচিত ফল মিলাইল বিধি।
এত কালে পাইলাম তোমা হেন নিধি॥
সর্ব্ব কর্ম্ম সমর্পিমু তোমার চরণে।
কৃপাকরি আলিঙ্গন দেহ বরাননে॥
হর বাক্য শুনিয়া বলেন হয় গ্রীব।
অপ্রাপ্য দ্রব্যের কেন বাঞ্ছা কর শিব॥
সর্ব্ব কর্ম্ম ত্যজিবারে পারে যেই জন।
অন্যমনা না হবে আমাতে এক মন॥
কায়মনবাক্যে করে আমার ভজন।
সে জনারে যাচি আমি দিব আলিঙ্গন॥
শিব বলেন কন্যা এই সত্য অঙ্গীকার।

আজি হৈতে তোমা বিনা না ভজিব আর॥

তাজিলাম সর্ব্ব কর্ম্ম ভার্য্যা পুত্রগণ।
সেবিব তোমার পায় দেছ আলিঙ্গন॥
হরি বলে কত আর করছ ভণ্ডন।
কেমনে ত্যজিবা তুমি ভার্য্যা পুত্রগণ॥
এক ভার্য্যা রাখিয়াছ জটার ভিতর।
আর ভার্য্যা করিয়াছ অর্দ্ধ কলেবর॥
হর বলেন হরি মধ্যে কেন হেন কহ।
ত্যজিয়া কপট তুমি কর অনুগ্রহ॥
কিছার সে নারী পুত্র নাম লহ তার।
শত শত গঙ্গা দুৰ্গা নিছনি তোমার।
দাসী হয়ে সেবিবে সে আমি হব দাস।
কৃপা করি বরাননী পুরাও আশ্বাস॥
যদি তুমি নিশ্চয় না দিবা আলিঙ্গন।
তোমার উপরে প্রাণ দিব এইক্ষণ।
নেউটি আমার পানে চাই চাৰুমুখে।
হের মরি ত্রিশূল মারিয়া নিজ বুকে॥
এত বলি ত্রিশূল নিলেন ভুতনাথ।
উলটি হাসিয়া তবে বলেন শ্রীনাথ॥
বুঝিলাম গঙ্গাধর তোমার যে জ্ঞান॥
কাম বশ হয়ে চাহ ত্যজিবারে প্রাণ॥
ধর্ম্ম হেতু ত্যজ খেদ চিত্ত কর স্থির।
দিব আলিঙ্গন তুমি না ত্যজ শরীর॥
নাহি জান বিশ্বনাথ আমার হৃদয়।
ভকত জনেরে আমি করি যে অভয়॥
যে জন যেমন কাম মাগে মম স্থান।
দেই ভারে অবস্য না হয় কভু আন॥
বিশেষ আমাকে পূর্ব্বে মাগিয়াছ তুমি।
অর্দ্ধ অঙ্গ দিব অঙ্গিকার করি আমি॥
এত বলি আলিঙ্গন দিতে জগন্নাথ।
আইস বলিয়া বিস্তারেন দুই হাত॥
আলিঙ্গন যুগল শরীর হৈল এক।
অদ্ধ ভস্ম ভুষা হৈল কস্তূরী অর্দ্ধেক॥
অর্দ্ধ জটাজুট অর্দ্ধ চিকুর চাঁচর।
অর্দ্ধেক কিরিটী অর্দ্ধফণী দণ্ডধর॥
কস্তূরী তিলক অৰ্দ্ধ অৰ্দ্ধ শশীকালা।
অর্দ্ধ গলে হাড়মাল্য অৰ্দ্ধে বনমালা॥
মকর কুণ্ডল কর্ণে কুঞ্জলি কুণ্ডল।
শ্রীবৎসলাঞ্জন অর্দ্ধ শোভিত গরল॥
অর্দ্ধ মলয়জ অৰ্দ্ধ ভস্ম কলেবর।
অর্দ্ধ বাঘাম্বর অর্দ্ধ কটি পিতাম্বর॥
এক পদে ফণী একে কমক নূপুর।
শঙ্খচক্র করে শোভে ত্রিশূল ডম্বুর॥