পুত্রগণ বলে মাতা কি কর্ম্ম করিলে। ১ শ্বেতবর্ণ উচ্চৈঃশ্রবা খ্যাত ভূমণ্ডলে ॥ কদ্রু বলে অশ্ব যদি ধবল আকার। কৃষ্ণঙ্গ যেমতে হয় কর প্রতীকার ।। করিলাম বিনতার সহ আমি পণ। হারিলে হইব দাসী না হয় খণ্ডন || এত শুনি নাগগণ বিরস বদন। মায়ের চরণে তবে করে নিবেদন । যেমন জননী তুমি তেমত বিনতা । কপটেতে দিব দুঃখ ভাল নহে কথাঁ !! শুনিয়া কুপিল কদ্রু দিব শাপবাণী । জন্মেজয় যজ্ঞে ভস্ম হবে সব ফণী ।। কদ্রু শাপ দিল যদি আনন্দিত ধাতা । ইন্দ্ৰ সহ আনন্দিত যতেক দেবতা || বিষম দুর্জ্জন ফণী লোকে হিংসা করে। আনন্দে কুসুম বৃষ্টি করে ইন্দ্রবরে ।। বিষের জ্বলনে লোক হয়ত বিনাশ । রক্ষা হেতু ব্রহ্মা মন্ত্র করিল প্রকাশ ।। দিব্য মন্ত্ৰ গাৰুড়িক দিল কশ্যপেরে। কশ্যপ হইতে প্রচারিল মর্ত্তপুরে ।। মহাভারতের কথা অমৃত সমান। কাশীরাম দাস কহে শুনে পুণ্যবান ৷৷ মায়ের বচন শুনি নাগগণ ভয়ে । শীঘ্রগতি গেল যথা উচ্চৈঃশ্রবা হয়ে || তুরঙ্গের পুচ্ছ ছিল ধবল বরণ । ঢাকিল পুচ্ছের বর্ণ যত নাগগণ ।। নিশ্বাসেতে কৃষ্ণাঙ্গ হইল উচ্চৈঃশ্রবা । লুকাইল পূর্ব্বের ধবল ইন্দু অভিা ৷৷ পরেতে বিনতা কদ্রু উঠিয়া প্রভাতে। ক্রোধযুক্ত দোঁহে হৈল। তুরঙ্গ দেখিতে । পথে যাইতে সমুদ্র দেখিল দুইজন। পর্ব্বত আকার তাহে জলচর গণ ৷৷ শতেক যোজন কেহ বিংশতি যোজন । কুম্ভীর কচ্ছপ মৎস্য আদি জন্তুগণ || হেনমতে কৌতুক দেখিয়া দুই জন । উচ্চৈঃশ্রবা অশ্ব যথা করিল গমন ।। নিকটেতে গিয়া দোহে করে নিরীক্ষণ। কৃষ্ণবর্ণ দেখে ঘোড়া অতি সুলক্ষণ ।। দেখিয়া বিনতা হৈল বিষণ্ণ বদন। ভাবে বুঝি অঙ্গীকার করে দাসীগণ আদি পৰ্ব্ব । গরুড়ের জন্মকথা | হেম মতে দাসীগণে আছেন বিনতা। মহাবীর গরুড়ের জন্ম হৈল এথা ।। ডিম্ব ফাটি বাহির হইল আচম্বিতে। দেখিতে দেখিতে কায় লাগিল বাড়িতে || প্রাতে হৈতে যেন ক্রমে সূৰ্য্য তেজ বাড়ে। বনে অগ্নি দিলে যেন দশদিগ বেড়ে ।। কামরূপী বিহঙ্গম মহ ভয়ঙ্কর । নিশ্বাসে উঠিয়া যায় যতেক শিখর || বিদ্যুৎ আকার অঙ্গ লোহিত লোচন । ক্ষণমাত্র মুণ্ড গিয়া ছুইল গগণ ৷৷ যুগান্তের অগ্নি যেন দেখে সৰ্ব্বজনে। সুরাসুর কম্পব ন হইল গৰ্জ্জনে ৷ অগ্নি হেন জানি সবে করি যোড়কর। অগ্নির উদ্দেশে স্তব করিল বিস্তর ।। অগ্নি বলে আমাতে এ স্তুতি কর কেন । আপনা সম্বর বলি বলে দেবগণ । অগ্নি বলে আমি নহি বিনতা নন্দন । সকল লোকের হিত হিংসক সিংহন || না করিহ ভয় কেহ থাক মম সঙ্গে। আনন্দিত হয়ে সবে দেখছ বিহঙ্গে । এত শুনি দেবগণ অগ্নির বচন । যোড়হাত করি করে গৰুড়ে স্তবন || ভীমরূপ তোমার দেখিতে ভয়ঙ্কর। সম্বরহ নিজ রূপ বিনতা কোঙর ।। তোমার তেজেতে চক্ষু মেলিবারে নারি। তোমার গর্জ্জনেতে লাগিল কৰ্ণে তালি ৷৷ কশ্যপের পুত্র তুমি হও দয়াবান । নিজ তেজ সম্বরহ কর পরিত্রাণ ।। দেবতার স্তবে তুষ্ট হৈল খগেশ্বর । আশ্বাসিয়া সম্বরহ নিজ কলেবর ।। তবে পক্ষীরাজ বীর অৰুণে লইয়া | আদিত্যের রথে তারে বসাইল গিয়া । বিষম সূর্য্যের তেজ পোড়ে ত্রিভুবন । গরুড়ের আচ্ছাদনে হৈল নিবারণ । মুনিগণ বলে কহ ইহার কারণ । কোন হেতু ত্রিভুবন দহে যে তপন | সৌতি বলে যেইকালে অমর বাটিল। মায়া করি রাহু তথা অমৃত খাইল ।। হেনকালে সূৰ্য্য বাক্য দেব নারায়ণ । চক্রেতে তাহার মুণ্ড করেন ছেদন ।।
পাতা:মহাভারত - কাশীরাম দাস.pdf/২৭
অবয়ব