মহাভারত । সুর্য্যের হুইল শাপ তাহার কারণে। সেই ক্রোধে গেল রাহু পাপ গ্রহ দিনে ।। সূর্য্যের হইল ক্রোধে যত দেবগণে। ডাকি বলিলাম আমি সবার কারণে । সবে দেখ কৌতুক আমারে করে গ্রাস । এই হেতু সৃষ্টি আমি করিব বিনাশ ।। আপনার তেজেতে পোড়াব ত্রিভুবন। এত চিন্তি মহাতেজা হইল তপন || দেবগণ নিবেদিল ব্রহ্মার গোচর। ত্রৈলোক্য দহিতে তেজ কৈল দিন কর || ব্রহ্মা বলেন ভয় না করিহ দেবগণ। ইহার উপায় এক কহিব বচন ।। কশ্যপের পুত্র হবে বিনতা উদরে। রবিতেজ নিবারিবে সেই মহাবীরে । কত দিন কষ্ট সহি থাক সৰ্ব্বজন । এত শুনি প্রবোধ পাইল দেবগণ । ভারতের পুণ্যকথা পুণ্যবান শুনে। পাঁচালি প্রবন্ধে কাশীরাম দাস ভণে ।। সূর্য্যেরথে অরুণের স্থান । অৰুণে লইয়া স্কন্ধে বিনতা নন্দন । সূর্য্যরথে যত্ন করি করিল স্থাপন। অশ্বদড়ি কড়িয়ালি ধরি বাম হাতে। রহিল অরুণ সে সারথি হৈয়া রথে । সূর্য্য রথে ভাইকে রাখিয়া পক্ষিরাজ । জননীর ঠাঞি গেল ক্ষীর সিন্ধু মাঝ ।। দুঃখিত জননী দেখি মলিন বদন । মায়ের নিকটে গিয়া করিল বন্দন ।। পুত্র দেখি বিনতার খণ্ডিল বিষাদ । আশ্বাসিয়া গৰুড়েরে করে আশীর্ব্বাদ ।। হেনকালে কদ্রু ডাকি বসে বিনতারে । রম্যদ্বীপেতে চল স্কন্ধে করে মোরে ।। রম্যক দ্বীপেতে মোর পুত্রের আলয়। ত্বরিতে লইয়া চল বিলম্ব না সয় ৷৷ কদ্রুরে করিল স্কন্ধে বিনতা সুন্দরী। নাগগণে গৰুড় লইতে স্কন্ধে করি । নাগগণে স্কন্ধে করি গরুড় উড়িল । চক্ষের নিমিষে সূর্য্যে মণ্ডলে চলিল || সূর্য্যের কিরণে পোড়ে যত নাগগণ । নাগ মাতা দেখে পুড়ি মরিছে নন্দন । পুড়ি মরে নাগগণ নাহিক উপায় । আকুল হইয়া কজ স্মরে দেব রায় ।। ত্রৈলোক্যের নাথ তুমি দেব শচীপতি ।। আমার কুমারগণে কর অব্যাহতি || বহু বিধ স্তুতি কদ্ৰ কৈল পুরন্দরে। ইন্দ্ৰ আজ্ঞা কৈল ডাকি সব জলধরে।। ততক্ষণে মেঘগণ ঢাকিল আকাশ । জল বৃষ্টি করিয়া ভরিল দিগপাশ ।। তবে খগপতি সব লৈয়া নাগগণ । রম্যক দ্বীপেতে বীর গেল ততক্ষণ ।। নাগের আলয় দ্বীপ অতি মনোহর। কাঞ্চনে মণ্ডিত গৃহ প্রবাহ প্রস্তর । ফুল ফলে সুশোভিত চন্দনের বন। মলয় সুগন্ধি বায়ু বহে অনুক্ষণ। আপনার আলয়ে বসিল নাগগণ । গৰুড়ে চাহিয়া তবে বলিল বচন ।। উড়িবার বড় শক্তি আছয়ে তোমার । চড়িয়া তোমার স্কন্ধে করিব বিহার || আর এক দ্বীপে লইয়া চল খগেশ্বর । শুনিয়া গৰুড় গেল মায়ের গোচর ।। গৰুড় বলিল মাতা কহ বিবরণ । পুনরপি স্কন্ধে লইতে বলে নাগগণ || প্রভু যেন আজ্ঞা করে সেবকের তরে। কি হেতু এমন বাক্য বলে বারে বারে !! একবার স্কন্ধে কৈনু তোমার আজ্ঞায়। পুনরপি বলে দেহে দহন না যায় ৷ বিনতা বলিল পুত্র দৈবের লিখন । আমি তার দাসী তুমি তাঁহার নন্দন || গৰুড় বলিল মাতা কহ বিবরণ । তুমি তার দাসী হৈলে কিসের কারণ । বিনতা কহিল পূর্ব্বে দেখি শ্রেষ্ঠ হয় । হারিলাম আমি পণ করিয়া নিশ্চয় || দাসীগণে সেই হৈতে খাটি তার আমি । তেকারণে দাসী পুত্র হৈলা বাপু তুমি || এত শুনি মহাক্রোধ করিল সুপর্ণ । সঘনে নিশ্বাস ছাড়ে চক্ষু রক্তবর্ণ ।। মায়ে এড়ি গেল সর্প মায়ের নিকটে। কদ্রুর অগ্রেতে বীর কহে করপুটে।। আজ্ঞা কর জননী গো করি নিবেদন। কি মতে মায়ের হয় দাসত্ব মোচন । কন্দ্র বলে মুক্ত যদি করিবে জননী। শুন তবে অমৃত আমারে দেহ আনি || এত শুনি খাবর আনন্দ অপার। মায়ের নিকটে বীর গেল আরবার ।।
পাতা:মহাভারত - কাশীরাম দাস.pdf/২৮
অবয়ব