পাতা:মানিক গ্রন্থাবলী (প্রথম খণ্ড).pdf/১২০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


bbè बिकांश विभिड छईशा दक्लि ‘थक ।' *আচ্ছা।” বলিয়া রান্নাঘরে ঢুকিয়া সুধা চোখ মুড়িতে লাগিল । দাদার দুঃখ এ বাড়ীতে তাহার চেয়ে কে ভাল করিয়া বোঝে । সারাদিন খায় নাই, কিন্তু কেমন অনিচ্ছার সঙ্গে দাদা মুখে খাবার তুলিতেছিল ? হাঁকা হাতে নিয়া কতক্ষণ টান দিতে খেয়াল থাকে নাই ? সমবেদনায় সুধার বুক ফুলিয়া ফাপিয়া উঠিতে লাগিল। ডালে কঁাটা দিতে দিতে মুখ চোখ বিকৃত করিয়া ঠোঁট কামড়াইয়া সে উচ্ছসিত কান্নার আবেগ ঠেকাইয়া রাখিল । মনোবৃত্তির এমন ভয়ানক বিপৰ্য্যয় তাহার ক্ষুদ্র জীবনে আর দেখা দেয় নাই। প্ৰথমে এতটা হয় নাই, দাদার স্নান মুখ ও ছলছল চোখ দেখা অবধি সে আর সাহা করিতে পারিতেছিল না । এদিকে তামাক টানিতে টানিতে চারিদিকে চাহিয়া বিকাশ ক্ৰমাগতই মনে মনে আশ্চৰ্য্য হইয়া যাইতেছিল। এই সময়টির যে কল্পনা সে মনে মনে করিয়া রাখিয়াছিল তার সঙ্গে কিছুমাত্র মিল নাই। সে রকম ছুটাছুটি হাকাহাকি হইতেছে কই ? সমস্তই ধীর মন্থর গতিতে ঘটিয়া চলিয়াছে। পুরাতন কাপড় নিতে আসিয়া মা পরম নিশ্চিপ্ত মনেই যেন চাকরকে জিনিষের ফর্দ লিখিয়া পয়সা বুঝাইয়া দিলেন, দাড়াইয়া দাড়াইয়া বোসগিন্নির সঙ্গে দুদণ্ড আলাপ করিলেন, রান্না সম্বন্ধে সুধাকে কয়েকটা উপদেশও দিলেন । মৃন্ময়ী উপরে শুইয়া আছে, পাচু বোধ হয় তার ছোট আলোটি জালিয়া অঙ্ক কষিতে বসিয়া গিয়াছে, বেচারীর হাফইয়ারলি পরীক্ষা আসন্ন। আঁতুড়ের দিক হইতে কাঠকয়লা পুড়িবার একটা গাঢ় গন্ধ ভাসিয়া আসিতেছে। দাইয়ের অবিশ্রান্ত বকুনি ও মাঝে নাই। সুলতার মৃদু কাতরাণি ছাড়া ও ঘরে শব্দ নাই চাঞ্চল্য অথচ এ কি সহজ ও সাধারণ ব্যাপার । পুরা দশটি মাস ধরিয়া বিধাতা স্বয়ং যে ক্লাইম্যাক্সের আয়োজন করিয়াছেন এই কি তাহার উপযুক্ত সমারোহ ? বিধাতার খেলায় তাড়াহুড়া নাই বলিয়াই কি সকলে চাঞ্চল্য পরিহার করিয়া কোন মতে ধৈৰ্য্য ধরিয়া আছে ? এই চিন্তার শেষটা নিয়া মনে মনে নাড়াচা৬া করিতে করিতে যাহা ঘটিবার ধীর সুস্থে তাহ ঘটবেই একথা মানিয়া নেওয়ার মধ্যে যে কতখানি স্বাচ্ছন্দ্য আছে বিকাশ নিজেও সহসা তাহা আবিষ্কার করিয়া ফেলিল । ৰিকাশের মনে হইল। তাহার দুশ্চিন্তা ও সুলতার যন্ত্রণা যে অশেষ নয় এই কথাটাই সে বাড়ীতে পা দেওয়া অবধি স্মরণ করিবার চেষ্টা করিতেছিল। রাত বারোটা একটার মধ্যে সাৰ চুকিয়া যাইবে আশা করা যায়। যত কষ্টই পাক সুলতা বারোটা একটা তো একসময় বাজিৰেই আজ । সাতাশ বৎসর ধরিয়া তাহার ‘জীবনে সংখ্যাইন রাত্রি পোহাইয়াছে আজিকার রাজিও পোহাইৰে বৈকি। মানিক-গ্ৰন্থাবলী আগামী কল্যের যে সূৰ্য্যালোকে সে সন্তানের মুখ দেখিবে, সে সূৰ্য্যকে মাটির পৃথিবী কয়েক ঘণ্টার জন্য আড়াল করিয়া iffcg i জোরে জোরে হুকায় কয়েকটা টান দিয়া বিকাশ জামাটা তুলিয়া নিয়া দোতলায় গেল। নিজের ঘরে পা দিয়াই তাহার চমক লাগিল। এখানেও কে যেন অস্ফুটম্বরে कँड्छ् ि। ঘরের মেঝেতে আলোটা কমানো ছিল, বাড়াইয়া দিয়া ঠাণ্ডা করিয়া বিকাশ দেখিতে পাইল, একটা বালিশ অকড়াইয়া বিছানায় উপুড় হইয়া পড়িয়া পাচু থর থর করিয়া কঁাপিতেছে এবং মাঝে মাঝে অক্ষুদ্ট শব্দ করিয়া কঁাদিতেছে। তাহার পিঠে হাত দিয়া বিকাশ বলিল, “তোর আবার কি হল রে পাঁচু ?” পাচু তৎক্ষণাৎ মামাকে সবলে জড়াইয়া ধরিল, বিহ্বল দৃষ্টিতে চারিদিকে তাকাইয়া বলিল “ভয় করছে মামা।” "কেন ভয় করছে কেন ? যা ভয়ের কিছু নেই।” পাঁচু হাঁপাইতে হাঁপাইতে বলে ‘একটা শাকচুয়ী ছাদে বেড়িয়ে বেড়িয়ে চুল বাধছিল একটা ভূত এসে তাকে জড়িয়ে ধরল।” ছেলেটা ঘামে ভিজিখা গিয়াছিল, ভয় সে সত্যই পাইয়াছে, কিন্তু কারণটা বিকাশ বুঝিয়া উঠিতে পারিল না। খোলা জানাল দিয়া ছাদের খানিকট। দেখা যায়, অল্প অল্প জ্যোৎস্নায় মন্দ আলো হয় নাই। ওই ছাদের কিসের উপলক্ষে আজ শাকচুরীর আবির্ভাব হইল, তাহার চুল বাধা দেখিতে ভূতই বা আসিল কোথা হইতে ? কিন্তু যে কারণেই ভয় পাইয়া থাক পাচুর ভ৭ ভাঙ্গানো দরকার। “তুই ছায়া দেখেছিল পাঁচু। চল দেখবি, ছাদে কিচ্ছ, নেই।” পাচু সািভয়ে বলিল ‘না মামা । কিন্তু বিকাশ তাহ শুনিল না, পাচুকে শক্ত করিয়া বুকে চাপিয়া ধরিয়া ছাদের দিকে চলিতে চলিতে হাসিয়া বলিল, “আমার সঙ্গে যাচ্ছিাস, তোর ভয় কিরে ? ভূতের আমি কাণ মলে দেব।” ছাদে গিয়া দেখা গেল শাকচুরীর কথাটা নেহাৎ মিথ্যা নয়। চুল এলাইয়া দিয়া মৃন্ময়ী অসম্বতে বেশে ছাদের আলিসার সঙ্গে মিশিয়া বসিয়া আছে। পায়ের শব্দেও সে মুখ তুলিল না। “তুই যে এখানে মিছা ?” মৃন্ময়ী কলহের সুরে বলিল 'কেন। এখানে কি আমার থাকতে নেই নাকি ?” বিকাশ বলিল “মিথ্যে চটিস কেন ? পাচু বড় ভয় পেয়েছে। মাথা ধরা কমাতে তুই ছাতে বেড়াচ্ছিলি, ও মনে করলে আমাদের বাড়ীতে আজ একটা শাকচুীই বা এলো। বে ফস কাপড় দুই পরিস।' ' মিন্ত্র বাবালো জ্বরে বলিল, “এৰায় থেকে ময়লা কাপড়