পাতা:মানিক গ্রন্থাবলী (প্রথম খণ্ড).pdf/১৩৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Àa) তাইতে গিয়েছে দেখছি। জানেন, ওর চুলের দিকে তাকালে আমার ভয় করে। এমন হঠাৎ সব চুল সাদা হয়ে গেল! তিন চার মাস আগেও সব চুল কালো ছিল। সেই থেকে স্বভাবও বদলে গেছে। কেসে কেসে মরবার দাখিল হয়েছে, তবু তামাক খাওয়া চাই। এমনি পায় না, আজি চাকরের হুকো কন্ধে খুজে নিয়ে কি ক’রে খুজলেন ? ऊारे ऊांष्ट्रेि ।। 65थं नष्ट्रे श्१| ° c५८क ७ कठ७नि আশ্চৰ্য্য ক্ষমতা জন্মেছে । উনি আপনার কে হন ? সে sো আপনাকে বলেছি । कि ब्रकभ चांजीश ? পরমাত্মীয়। বলিয়া রাধা হাসিবার চেষ্টা করিল। এ বিষয়ে হেরম্ব আর কোন প্রশ্ন করিল না, গম্ভীর হইয়া বলিল, কাসির পক্ষে এ যায়গাটা খুব উপকারী। মাসখানেকের মধ্যে ওঁর অনেক উপকার হবে। সেই জন্যেই তো এখানে এলাম। ওর বেঁচে থাকা বড় দরকারী, বড় দরকারী। এই বলিয়া রাধা এমন এক প্রকার রহস্যময় দৃষ্টিতে হেরম্বের মুখের পানে চাহিয়া এত বেশী অন্যমনস্ক হইয়া গেল যে হেরম্বের মনে হইল শুধু বাচিয়া থাকার জন্য নয়, একটা অন্যতম বৃহৎ কারণে অকাল-বৃদ্ধের বাচিয়া থাকাটা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হইয়া পড়িয়াছে। চেষ্টা করিয়াও সে এই উদ্যত প্রশ্নটাকে আটকাইয়া রাখিতে পারিল না ; বেঁচে থাকা দরকারী কেন ? অতর্কিতে একটা অতি বড় অপরাধ যেন ধরা পড়িয়াছে, এমনিভাবে চমকাইয়া উঠিয়া রাধা কেমন বিহ্বল হইয়া গেল। সে আপনি বুঝবেন, আপনাকে আমি বুঝিয়ে দেব। আপনি আজ আমায় একটা ভিক্ষা দিন। ওকে বাচিয়ে রাখার জন্য আমাকে আপনার সাহায্য করতে হবে। করবেন ? হেরম্ব ব্যস্ত হইয়া বলিল, করব বৈ কি। নিশ্চয় করব। পরম আশ্বস্ত হইয়া রাধা বলিল, ডাক্তার বলেন দু'এক বছরের মধ্যে ওর কিছু হবে না। আপনার কি মনে হয় ? আমার মনে হয়। উনি সেরে উঠবেন। না, সে আশা আর নেই। বলিয়া রাধা ঘরে ঢুকিয়া Pछिल } বেলা বাড়িয়া উঠিয়াছিল। সেমিজ খুলিয়া চুল এলাইয়া দিয়া গামছা হাতে রাধা বাহির হইয়া আসিলে হেরম্ব বিদায় আমার আত্মীয় । sffR রাধা বলিল, বিকালে ছেলে মেয়েদের নিয়ে আসবেন। হেরম্ব হাসিল, কার ছেলে মেয়ে ? আমার ? Qቐiቂi፬ ዓiiCግl ! ছেলে মেয়ে নেই আপনার ! এ যেন অকথ্য, অবিশ্বাস, কল্পনাতীত দুঃসংবাদ । হেরম্বের মানিক-গ্ৰন্থাবলী মনে হইল ইচ্ছা করিয়াই গামছাট ফেলিয়া নিয়া কুড়াইবার ছলে রাধা কয়েক মুহূৰ্ত্তের জন্য মুখখানা আড়াল করিল। সোজা হইয়া দাড়াইতে দেখা গেল ওইটুকু সময়ের মধ্যে মুখের হতাশাব্যঞ্জক ভাবটা সম্পূর্ণ মিলাইয়া দিতে পারে নাই একটুখানি স্নান হাসিয়া বলিল, আপনাকে দেখেই কিন্তু মনে হয়েছিল। আপনার ঘরভরা ছেলেমেয়ে। এমন স্বাস্থ্য এমন রূপ এমন প্ৰতিভার জ্যোতি মুখে চোখে রাধা দ্রুতপদে স্মানের ঘেরা স্থানটুকুতে ঢকিয়া পড়িল । হেরম্ব খানিকক্ষণ নড়িতে পারিল না। রাধার মন্তব্য খুব বেশী অদ্ভুত ও আকস্মিক তাহা নয়, ছেলে মেয়ে নাই শুনিয়া যে আশ্চৰ্য্য মুখভঙ্গি সে করিয়াছিল এ মন্তব্যের জন্য তার চেয়ে বিশদ ও সুস্পষ্ট ভূমিকার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু তাহার স্বাস্থ্য রূপ ও প্ৰতিভার অপচয়ে রাধা এমন বিচলিত হইল কেন ? পরিচয় তো মাত্র কয়েক ঘণ্টার । পাতলা কাপড়ের আড়ালে রাধাকে ছায়ার মত দেখা যাইতেছিল, একটুখানি বিদেহী সোণালী আভা। হেরম্ব বুঝিতে পারিল মাথায় জল দেবার চেষ্টা মাত্র না করিয়া রাধা জলচৌকীতে নিশ্চল হইয়া বসিয়া আছে। বাহিরের দিকে পা বাড়াইয়া হেরম্বও নিশ্চল হইয়া ज़िादेधा फ़िल। বারান্দা যেখানে বাহিরের ঘরের দিকে দিকপরিবর্তন করিয়াছে সেখান হইতে একটি সুদীর্ঘ কালো ছায়া উকি মারিতেছিল, হেরম্বকে চাহিতে দেখিয়া চোখের পলকে অন্তহিত হইয়া গেল। চলিতে আরম্ভ করিয়া হেরম্বের মনে হইল, এ মন্দ নয়। সমুখে যখন স্বহস্তে-রচিত বস্ত্রাবাসে স্বর্ণভি ছায়া জ্বলজ্বল করে পিছনে তখন বিপুল কালো ছায়া নিঃশব্দে প্রহরীর মত |फुद्देश्व्र १८:क्र । বাহিরের ঘরে পা দিতে দৈত্য সোজা দাড়াইয়া গম্ভীর আওয়াজে বলিল, সেলাম বাবু। সেলাম। তুমি মুসলমান নাকি ? cifवभि Cभांछलभन्न । লোকটার। আপাদমস্তক একবার নিরীক্ষণ করিয়া হেরম্ব পথে নামিয়া পড়িল। ইহার লোমশ হাতের এক টিপুনিতে গলার অবস্থাটা কি রকম দাড়াইতে পারে কল্পনা করতে গিয়া কৌতুকানুভূতির পরিবর্ভে তাহার গলার মধ্যে খুব খুলি कब्रि! ऐठिं । দিন যায়। আর হেরম্বের মনে হয় রাধা নিজে যেন ধাধা। নয়, একটা অদ্ভূত রহস্য তাহাকে কেন্দ্ৰ করিয়া পাক খাইতেছে। বায়ুর মতই হয়ত তাহ স্বচ্ছ, কিন্তু ধূলাবালিতে এমনি আবিল হইয়া উঠিয়াছে যে রাধাকে ঝাপসা মনে হয়। জীবনে একটি বিশেষ অবস্থায় উপনীত হইয়াছে বলিয়াই তাহার যতটুকু অভিনবত্ব, নহিলে রূপের হিসাব ছাড়া প্ৰভায় সঙ্গে তাহার পার্থক্য সম্ভবতঃ এতখানি নয়।