পাতা:মানিক গ্রন্থাবলী (প্রথম খণ্ড).pdf/১৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


S a भांनिक-@ष्ट्रांदी ঠাকুরবি, এ বয়সে কি আর বুড়ি হয়ে থাকব। সত্যি সত্যি। শ্যামা বলে, মেয়ে বড় হতে হতে আর একটি আসবে যে! বিষ্ণুপ্রিয়া জোর দিয়া বলে, না, আর আসবে না। মন্দা খিলখিল করিয়া হাসে ; বললেন বটে একটা হাসির কথা ! এখুনি রেহাই পাবেন ? আরও কত আসবে, ভগবান দিলে কারো সাধ্যি আছে ঠেকিয়ে রাখে। শ্যামা বলে, ঠাকুরবি আপনাকে জব্দ করে দিলে। বিষ্ণুপ্রিয়া বলে, আমাকে জব্দ করা আর শক্ত কি ? যে বিষ্ণুপ্রিয়ার এমনি পরিবতন হইয়াছে একদিন সকালে সে শ্যামাকে দেখিতে আসিল । মেয়েকে সে সঙ্গে আনিল না। মেয়েকে সঙ্গে করিয়া বিষ্ণুপ্রিয়া কোথাও যায় না, কারো বাড়ি মেয়েকে যাইতেও দেয় না, ঘরের কোণে লুকাইয়া রাখে। বাড়ির পুরানো ঝি ছাড়া আর কারো কোলে সে মেয়েকে যাইতে দেয় না। মেয়ের সম্বন্ধে তাহার একটা সন্দেহজনক গোপনত আছে, পাড়ার মেয়েরা এমনি একটা আভাস পাইয়া কৌতুহলী হইয়া উঠিয়াছিল। তারপর * সকলেই জানিয়াছে। জানিয়াছে যে বিষ্ণুপ্রিয়ার মেয়ে পৃথিবীতে আসিয়াছে পাপের ছাপ লইয়া, মহিম তালুকদার હો સૂત્ર ત્રો ] এবার বিষ্ণুপ্রিয়াকে কার্পেটের আসনটাতেই বসিতে দেওয়া হইল। মন্দা ভদ্রতা করিয়া জিজ্ঞাসাও করিল, আপনাকে এক কাপ চা করে দি ? চা ? বিষ্ণুপ্রিয়া চা খায় না। খান না ? মন্দা সুন্দর আবাক হইতে জানে, কি আশচর্ষি -তা, চা আমার মেজননদও খায় না। তার বিয়ে হয়েছে চিলপাহাড়ীর জমিদার বাড়ি, মস্ত বড়লোক তারা, চালচলন সব সাহেবি। বিয়ের আগে আমার ননদ খুব চা খেত, বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ি গিয়ে ছেড়ে দিলে। বললে চা খেলে গায়ের চামড়া কৰ্কশ হয়। আমার মেজননন্দ খুব সুন্দরী কিনা, রঙ প্ৰায় গিয়ে নেমদের মত কটা, রঙ খারাপ হবায় ভয়ে ময়ে থাকে। আমার কর্তাটিকে দেখেন নি ? ওদের হল ফিসার গুষ্টি, তাদের মধ্যে ওনার রঙ সবচেয়ে মাজা, তারপরেই আমার মেজািননাদ । ছেলেদের জন্য বসিয়া কারো সজে কথা বলিবার অবসর মন্দা পায় না। উঠানে দুই ছেলে চৌবাচ্চার জল নষ্ট আপনার ননদটি বেশ। খুব সরল। भूए। বিষ্ণুপ্রিয়া প্ৰতিবাদ করিল না। আঁচলে মুখ মুছিয়া শুষ্ঠােমার চোখোচে্যুখি হওয়ায় একটু হাসিল। বাহিরে ঝকঝকে রোদ উঠিয়াছিল। শহরতলীর বাড়ি, জানাল দিয়া পুকুরও চোখে পড়ে, গাছপালাও দেখা যায়। আর পাখি। শরৎকালে পথ ভুলিয়া কতকগুলি পাখি শহরের ধারে আসিয়া পড়িয়াছে। " বিষ্ণুপ্রিয়া বলিল, তোমার ছেলের জন্যে দুটাে একটা জামাটামা পাঠালে কিছু মনে করবে ভাই ? মনে যদি কর তো স্পষ্ট বলো, মনে এক মুখে আর এক কোরো না। বিষ্ণুপ্রিয়ার বলার ভঙ্গিতে শ্যামা একটু অবাক হইয়া গেল। বলিল, জামার দরকার তো নেই। দরকার নাই বা রইল, বেশিই না হয় হবে।-পাঠাবো ? শ্যামা একটু ভাবিয়া বলিল, আচ্ছা। আনকোরা নতুন জামা, দর্জিবাড়ি থেকে সোজা তোমায় দিয়ে যাবে,-আমার মেয়ের জামাটামার সঙ্গে ছোয়াছুয়ি হবে না ভাই। হলই বা ছোয়াছুয়ি ? বিকালে বিষ্ণুপ্রিয়ার উপহার আসিল। কচি ছেলের দরকারী কয়েকটা জিনিস। গালিচার মত পুরু ও নরম ফ্লানেলের কয়েকটি কঁথা, ছেলেকে জড়াইযা পাটলি করিয়া কোলে নেওয়ার জন্য ধবধবে সাদা কোমল তিনটি তোয়ালে আর আধা ডজন সেমিজের মত পাতল লম্বা জামা । শেষোক্ত পদার্থগুলি মন্দাকে বিস্মিত করে। এগালো কি বৌ ? আলখাল্লা নাকি ? শু্যামা হাসে : ঠাকুরবি যেন কি ! সায়েবদের ছেলেরা পরে দ্যাখেনি ? তুমি যেন কত দেখেছি! দেখিনি ! গড়ের মাঠে চিড়িয়াখানায় কত দেখেছি । ও, কত তুমি বেড়িয়ে বেড়ােচ্ছ গড়ের মাঠে চিড়িয়াখানায় ! না ঠাকুরবি, ঠাট্ট নয়, আগে সত্যি নিয়ে যেত, চার পাঁচবার গিয়েছি যে। সায়েবদের কচি কচি ছেলেদের এমনি জামা পরিয়ে ঠেলা গাড়িতে করে আযার বেড়াতে আনত। এমন সুন্দর ছেলেগুলি, চুরি করে আনতে সাধ হত। আমার । পুরানো কঁথার উপর শ্যাম নুতন কাথা বিছায়, ছেলের তৈলাক্ত পেনিটি খুলিয়া বিষ্ণুপ্রিয়ার দেওয়া আলখাল্লা পরায়, তারপর একখানা তোয়ালে জড়াইয়া শোয়াইয়া দেয়। আনন্দে অভিভূত হইয়া বলে, কি রকম দেখাচ্ছে দ্যাখো ॉकूब्रयःि । মন্দা হাসিমুখে সায় দিয়া বলে, খাসা দেখাচ্ছে বৌ। ওমা, মুখ বাকায় যে ! ছেলেকে শ্যামা সত্যসত্যই পুটুলি করিয়াছে। হাত পা নাড়িতে না পারিয়া সে হাঁপাইয়া কাদিয়া ওঠে। তোয়ালেটা শু্যামা তাড়াতাড়ি খুলিয়া লয়। মন্দা শিশুকে কোলে লুইয়া বলিতে থাকে, আ সোনা, অ মাণিক-তোমায় বেঁধেছিল, শক্ত করে বেঁধেছিল, মরে যাই। শ্যামার গায়ে কাটা দেয়, মাথা দুলাইয়া ঝোক দিয়া দিয়া মন্দা বলিতে থাকে, মেরেছে? আমার ধনকে মেরেছে ? কে মেরেছে রে । আ লো আ লো—এন ন ন• • • শুষ্ঠামা উত্তেজিত হইয়া বলে, ও ঠাকুরবি, ও যে হাসলো।