পাতা:মানিক গ্রন্থাবলী (প্রথম খণ্ড).pdf/১৮০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Sዓ® • তোমাকে আর কিছু জিজ্ঞেস করতে চাই না। তোমাকে কথা জ্বা, তবু বলছি, যদি পাৱ সুইসাইড কোরো। তোমার মত মন নিয়ে কারো বেঁচে থাকা উচিত নয়। আচ্ছা, এবার তুমি ৰাও রাজু। কথা বলিতে রাজকুমারের সাহস হুইতেছিল না। রিণি সব বলিয়াছে যা ঘটে নাই, যা ঘটতে পারিত না। কিছুই বলিতে বাকী রাখে নাই। কেন বলিয়াছে ? কি চায় রিণি ? তার উদ্দেশ্য কি ? যতই বিকার থাক মনে, রিণি তো পাগল নয়। তাকে জড়াইয়া বাপের কাছে এই অদ্ভুত অকথ্য কাহিনী সে বলিতে গেল কেন ? তাকে সে পাইতে চায়, বিবাহের মধ্যে, চিরদিনের জন্য ? কিন্তু তাকে পাওয়ার জন্য এই উদ্ভট উপায় সে অবলম্বন করিবে কেন ? রিণি তো কোনদিন জানিতেও দেয় নাই, তাকে তার চাই। যদি ধরা যায়। তখন রিণিও নিজেকে জানিত না, সেদিনকার রাগারগির পর এতদিনের আদর্শনে তার খেয়াল হইয়াছে, নিজেই তাকে ক্ষমা করিয়া তাকে তো সে কাছে ডাকিতে পারিত, চেষ্টা করিতে পারিত তাকে জয় করার। এই চেষ্টা ব্যৰ্থ হইলে, তাকে পাওয়ার আর কোন উপায় খুজিয়া না পাইলে রিণি। যদি এই পাগলামি করিত, তার একটা মানে বুঝা যাইত। তোমায় যেতে বলেছি। রাজু। কাল আমি একবার রিণির সঙ্গে দেখা করতে চাই । স্তর কে, এল সন্দিগ্ধভাবে বলিলেন, কেন ? রাজকুমার উঠিয়া দাড়াইল ।--আপনার সঙ্গে কথা বলার আগে রিণির সঙ্গে আমার কথা বলা দরকার । এমন তো হতে পারে, আপনি সব কথা জানেন না, রিণি আপনাকে সব বলতে পারেনি ? আপনি ধরে নিন, রিণি আর আমার মধ্যে কয়েকটা ভুল বোঝা আছে, ধরে নিয়ে কাল তার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দিন । ব্লটিং প্যাডের দিকে চাহিয়া স্তর কে-এল চুপ করিয়া ৰসিয়া রহিলেন। একটু অপেক্ষা করিয়া রাজমারও নীরবে বাহির হইয়া Cu পথে নামিয়া মালতীর কাছে তাড়াতাড়ি ফিরিয়া যাওয়ার জন্য রাজকুমার ট্যাক্সি ডাকিল না, ধীরে ধীরে হাটিয়া চলিতে লাগিল। দেহে মনে সুন্দর সরাসীকে আশ্রয় করিয়া সে ষে আনন্দের জগতে উঠিয়া গিয়াছিল, সেখান হইতে আবার মাটিতে নামিয়া আসিতে হইয়াছে। চলিতে চলিতে য়াজকুমারের মনে হয় সে কি সত্যই কিছু পাইয়াছিল, আনন্দ অথবা শান্তি ? এখন তো তার মনে হইতেছে, কয়েকটা দিন সে আধু অন্যমনন্ত হইয়া থাকিবার সুযোগ পাইয়াছিল। মানিক-গ্ৰন্থাবলী চলিতে চলিতে মালতীর কথা ভাবিয়া রাজকুমার শ্রাক্তি বোধ করে। কি মধুর ছিল মালতী-সম্পর্কে তার গুরুতর কৰ্ত্তব্যের কল্পনা কয়েক মূহুৰ্ত্ত আগে । মালতীকে ভালভাৰে বুঝাইয়া দিতে হইবে মালতী কি চায়। জীবনের স্রোতে ভাসিয়া চলিতে চলিতে একটি বিচ্ছিন্ন ফুল অস্থায়ী বাধায় আটকাইয়া গিয়াছে, ভাবিতেছে এইখানে বুঝি তার ভাসিয়া চলার শেষ, আবার তাকে ভাসিয়া যাওয়ার সুযোগ দিতে হইবে তার নিজস্ব পরিণতি, স্থায়ী সার্থকতার দিকে। এই কাজটুকু করিবে ভাবিয়াই নিজেকে রাজকুমারের দেবতা মনে হইতেছিল। ভীরু দুর্বল মানুষের মত এখন তার মনে হইতে থাকে, মালতীর মুখোমুখি হওয়া একটা বিপদ’ মালতীকে কিছু বুঝানোর চেষ্টা বিপজ্জনক সম্ভাবনায় ভরা । অবিশ্বাস্য, তবু সত্য। মালতী যে ঘরে তার প্রতীক্ষা করিতেছিল তার রুদ্ধ দরজায় টোকা দেওয়ার সমান রাজকুমার পূৰ্ণমাত্রার সচেতন হইয়া উঠিল যে, দরজার ওপাশে মালতীর স্পর্শ ছাড়া আর সমস্তই অর্থহীন। কথা অবশ্য সে বলিতে পারে যত খুলী, কিন্তু কথার কোন মানে থাকিবে না। স্যার কে, এল-এর স্যাম্পেনের বোতল খোলার আওয়াজের মত কথা হইবে শুধু তৃষ্ণার সঙ্কেত, পানীয়ের আহবান। আজি হঠাৎ নয়, চিরদিন এমনি ছিল, মনের অনেক দরজার ওপাশে অনেক মালতীর স্পর্শ। এইমাত্র শুধু সেটা জানা গেল। আকাশের মেঘে সে বাসা বাধিয়াছিল, সেখান হইতে নামাইয়া আনিয়া রিণি তাকে মাটিতে আছড়াইয়া ফেলিয়াছে, তাই জানা গেল । সন্দেহ করার ভরসাও তার নাই। অভিজ্ঞতার মত এভাবে যা জানা যায় তাতে কি আর ভুলের সুযোগ থাকে ? একটি রহস্য শুধু এখন বিস্ময়ের মত জাগিয়া আছে যে, মালতী কেন, ? যার জন্য নিজের মেহকে একদিন ভালবাসা মনে হইয়াছিল, সে কেন ? রিণি আর সরাসী থাকিতে মালতী কেন এ অভাবনীয় রূপকে পরিণত হইয়া গেল ? চুলোয় যাক। মালতীকে দুয়ার খুলিবার সঙ্কেত জানাইবার পর মালতী দুয়ার খুলিয়া দেওয়া পৰ্য্যন্ত কয়েক মূহুৰ্ত্ত BBBDDDBS BTDDDDYBBS DDSS S DD BBD BBK মালতী৷ যদি খ্যামলকে ভালবাসে আর সেই ভালবাসাই তাকে ঠেলিয়া দেয় তার পরম শ্ৰদ্ধাস্পদ রাজকুমারের দিকে, রাজকুমারকে সে শুধু ভালবাসিতে চায় বলিয়া, রাজকুমারকেই তার ভালবাসা উচিত এই ধারণা পোষণ করে বলিয়া ? এ তো সর্বদাই ঘটিতেছে। ভালবাসিবার দুরন্ত ইচ্ছা যে ভালবাসা নয়। এ জানি অনেকের ৰেভাৰে আসিয়াছে মালতীরও সেভাবে আত্মক-আজ রাজি শেষে, অথবা আগামী কাল। সে নিজে অৰণ্ড সব জানে। কিন্তু জানা কথা না জানার