পাতা:মানিক গ্রন্থাবলী (প্রথম খণ্ড).pdf/২১৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


So Yo গে। ডায় বাপ মারা গেল। কিছু টাকা হাতে পেয়ে চাকরী ছেড়ে একটা ব্যবসা আরম্ভ করেছিল, সুবিধা হল না। বীমার দালালী করেছিল কিছুদিন, সুবিধা হল না। একটা এজেন্সির কারবার ধরেছিল, সেটাতে কিছু হল না। দুটো ছেলে হবার পর বৌটা পড়ল। অসুখে, সেই থেকে একটানা ভুগছে। বোনের বিয়ে দিয়েছিল, বোনটাকে তার স্বামী নেয় না। বিরক্ত হয়ে সকলকে দেশের বাড়ীতে পাঠিয়ে দিয়ে নিজে সে কলকাতায় নতুন একটা ব্যবসা ফেদেছে। ‘সংসারের হাঙ্গামা নেই, খরচের টাকা পাঠাই, বাস। এবার ঠিক গুছিয়ে নেব। দু’বছরের মধ্যে যদি না মোটর ffe 2-- বাড়ীর ঠিক মাঝখানে উচু চাচের বেড়া। খুব লম্বা মানুষের মাথা ছাড়িয়েও হাতখানেক উচু হবে। বে। ৬ ডিঙিয়ে কারো নজর চলবে না, অবশ্য যদি উচু কিছুর উপর দাড়িয়ে নজর চালানো না হয়। নজর দেবার অন্য উপায় আছে ; ফুটোতে চোখ পাতা । বাড়ীটাকে সমান দু’ভাগ করেছে বেড়াটা, পশ্চিমে ভিটার লম্বা দাওয়া ভাগ ক’রে, উঠান ভাগ ক’রে সদরের বেড়ার চার হাত ফাকের ঠিক মাঝখান দিয়ে খানিক এগিয়ে বাড়ীতে ঢুকবার এই ফাকি আড়াল ক’রতে দাঁড় করানো সামনের পর্দা-বেড়াটার ঠিক মাঝখানে গিয়ে ঠেকেছে। আগে, প্ৰায় সাত বছর আগে, গোবৰ্দ্ধন ও জনাৰ্দনের বাপ অনন্ত হাতী যখন বেঁচে ছিল, তখন বাড়ীতে ঢুকবার পথ ছিল একটা দক্ষিণ-পূব কোণে। এই পথের সামনেও বসানো ছিল একটা আড়াল-করা পদ-ৰেঙা । ভাগের সময় পথটা পড়েছিল জনাের্দনের ভাগে। সদরের বেড়ার আরেক প্ৰান্তে, অর্থাৎ উত্তর-পূব কোণে বেড়া কেটে নতুন একটা প্ৰবেশ-পথ করে নিতে অত্যন্ত অসুবিধা থাকায় গোল বেধেছিল। ঢুকবার-বেরোবার পথই যদি না থাকল, ৰাড়ীর এমন ভাগ দিয়ে সে কী করবে-গোবৰ্দ্ধন প্ৰতিবাদ জানিয়েছিল। মালিকদের মানতে হয়েছিল বে। তার আপত্তি সঙ্গত। অনেক মাথা ঘামিয়ে তারপর সালিশরা, যাদের প্রধান ছিলেন সদরের সেরেস্তাদারের বাৰা প্ৰাণধন। চক্রবর্তী জ্যোতির্বিদ্যাভূষণ, ব্যবস্থা দিয়েছিলেন ভাগের বেড়ার দু’পাশে সদর বেড়া দু’হাত ক’রে কেটে দুই অংশের দুষ্কৰাক্স-বেরোনার পথ করা হােক, আর পুরনো পর্দা বেড়া CeNs মানিক-গ্ৰাম্ভাৰলী জমজমাট নেশা হয়েছে যতীনের। সগৰ্বে বুক ঠুকে সে পুলকেশকে শোনায় ব্যবসাতে তার কেমন তীষ্ম বুদ্ধি, অল্পদিনে কী ভাবে সে ফোঁপে উঠবে, অন্য লোকেরা কী ভুল করে আর সে কী ভুল করবে না, এমনি সব বড় বড় কথা। জীবনে অসামান্য সাফল্য লাভের অহঙ্কারেই সে যেন সিধে হয়ে বসে উত্তেজনায় কঁাপিতে থাকে। পুলকেশ তার দিকে চেয়ে থাকে। ভাবে, ন’টার শো-এ প্রিয় ছবিটা তৃতীয়বার দেখতে বাবার সময় ওকে সঙ্গে নিয়ে যাবে, না একাই যাবে। vummumuhimunum তুলে এনে স্থাপন করা হোক এই বিভক্ত পথের সামনে ; কারণ ও বেড়াটাও দু'ভায়ের বাপের সম্পত্তি। অতএৰ দু'জনের ওতে সমান অধিকার। জনাৰ্দন আপত্তি ক'রে বলেছিল আড়াল-করা বেড়া সরালে সদর বেড়ার কোণের পুরনো পথের शैकgक ब्रारgन्म লোক যে তার বাড়ীর বৌ-ঝিদের দেখতে পাবে, তার কী হবে ? সে এমন কী অপরাধ করেছে যে, গাটের পয়সা খরচ ক’রে তাকে বন্ধ করতে হবে বে।৬ার ফাক। রীতিমত সমস্যার কথা। সালিশরা যখন মীমাংসা খুঁজতে মাথা ঘামাচ্ছেন, গোবৰ্দ্ধন উদার ও উদাসভাবে বলেছিল, তিন হাত বেড়ার ফাঁকি-বন্ধ করার পয়সা খরচ করতে যদি জনাের্দনের আপত্তি থাকে, সে এদিকের অংশ নিক। সদর বেড়ার ফাকের অসুবিধা ভোগ করতে গোবৰ্দ্ধন রাজী আছে। অনেক তর্ক-বিতর্কের পর সালিশরা হঠাৎ সমস্যান্টার চমৎকার মামাংসা আবিষ্কার করেন। কেন, দু’পাশে দু'হাত করে পথ করতে সদর বেড়ার মাঝখানে চার হাত অংশ তো কাটতেই হবে, তাই দিয়ে অনায়ালে বন্ধ করা যাৰে জনার্দনের অংশের সদর বেড়ার পুরনো ফাক । এমনি দুৰ্য্যোধনী জেদি হিংসার চুলচেরা ভাগাভাগির প্রতীক হয়ে ভাগের বেড়াটি দাঁড়িয়ে আছে সাত বছর। অনন্ত হাতীর শ্রান্ধের দশ দিন পরে বেড়াটা উঠেছিল । আদালত কুরুক্ষেত্রে তারপর যত লড়াই হয়ে গেছে দু’ভায়ের মধ্যে জমিজমা নিয়ে, যত হাতাহাতি গালাগালি হয়ে গেছে বাগানের ফল, পুকুরের ঘাট, গাছের মারা ভালের ভাগ নিয়ে তাও যেন প্রতীক হয়ে আছে এই বেড়াটিই। M