পাতা:মানিক গ্রন্থাবলী (প্রথম খণ্ড).pdf/২২০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


· RYVO ক্ৰমে গজেনের উত্তেজনা ফিরে আসায় কাব্যিক বিষাদ কেটে যায়। আরও কিছু পরে বেশ মেতেই ওঠে তারা দুজনে । ছই-এর বাইরে হাবোকে প্ৰথম দেখতে পায় ফুল। গজেনকে একটু ঠেলে সরিয়ে দিয়ে সে বলে, “তুমি CF col f” গজেন মুখ ফিরিয়ে বলে, করছিস হেথা ?” “কিরে হাবো ? কি হাৰাে পা গুটিয়ে হাতে ভর দিয়ে বলে ই করে। দেখছিল। মুখ দিয়ে তার লালা গড়িয়ে গড়িয়ে নৌকার পাটাতনে জমেছে। সসপ করে লালা টেনে মুখ বন্ধ করে সে উঠে দাড়ায়, এক লাকে ভাজায় পড়ে, দুটি দেয়। शैव एिक । দূরে থানার পেটা ঘড়িতে দশটা বাজবার খানিক পরে দয়ালের বাড়ীতে “আগুন । আগুন ? চীৎকার ওঠে। পাড়ার লোক হৈ হৈ করে ছুটে যায়। পুরো এক টিন কেরোসিন গায়ে বিছানায় ঢেলে হাবো আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। ঘরে। পৰ্য্যন্ত আগুন ধরে গেছে। দয়ালের । খবর শুনে বৈরাগী দাসের বেী চোখ বড় বড় করে বলে, “এক টিন তেল। কুপি জালার তেল মেলে না এক ফোটা, ছড়ি এক টিন তেল ঢেলেছে।” অনেকেই আপশোষ করে । - at a 2 is as St. s is an Nst 2 কৈলাস বসুকে সকলে স্বার্থপর আর সঙ্কীর্ণচতা বলে জানে। মানুষটার চালচলন আচার ব্যবহার তো বটেই, চেহারাও সকলের এই ধারণাকে অনেকটা সমর্থন করে । বেঁটে, অটোসোটো ধরণের মোটা, প্ৰায় গোলাকার মাথায় বুরুষের মতো শক্ত ছোট ছোট করে ছাটা চুল, লম্বা, নাকের দু’পাশে মোটা ক্রর নীচে খুদে খুদে দু'টি চোখ । চোখ দু'টিকে কটাই বলা চলে । ছোট এবং কটা, তবু সে চোখের দৃষ্টি বড় বড় নিকষ কালো চোখের অধিকারীদের কাছে বড় বেশী স্পষ্ট সমালোচনা আর তিরস্কারে ভরা মনে হয়। মুখের আটক নেই, এমন অভদ্র মানুষকে এড়ানোর মতো সকলের চোখ তাই কৈলাস বসুর চোখকে এড়িয়ে চলে । কৈলাস কথা ষে কম বলে তা নয়, মৃদু রসিকতাভরা হাসির সঙ্গে মিষ্টি কথাই সাধারণত বলে, তবু লোকের মনে হয় সে যেন বড় বেশী গম্ভীর, সব সময় মুখ বুজে কেবল নিজের কথা ভাবছে। কারণটা সম্ভবত এই যে, অন্তের বক্তব্যের সঙ্গে প্রায়ই তার কথার কোন যোগ থাকে না । অবিনাশ চক্ৰবৰ্ত্তীর সঙ্গে হয়তো তার দেখা । BDB BBSBBD DBD BBD TKYS LDK DDLDDD সাগ্রহে জিজ্ঞেস করল, “ঘোষালের কীরতিটা শুনেছেন, দাদা-ওপাড়ার কেদার ঘোষালের নতুন কী বুতি ? ছি, ছিা! ভদৱলোকের এমন । পিরবিত্তি হয়, এমন কাজ ভদরলোকে করে !=' কৈলাস হয়তো জিজ্ঞেস করে, "ছেলের কোন খপর পেলেন চকোক্তি মশায় ? চিঠিপত্র এল ?” অবিনাশ একটু দমে যায়। সহরবাসী রোজগেরে ছেলে তাকে ত্যাগ করেছে সত্য, চিঠিও লেখে না খবরও পাঠায় না, কিন্তু এই কি সে কথা তুলবার সময়! সহানুভূতি জানানোর তো সময় আছে ? তবু ধৈৰ্য্য ধরে অবিনাশ হয়তো বলে, “না, চিঠিপততর পাইনি। কি জানেন দাদা, এ যুগটাই এ রকম, কারও কাণ্ডজ্ঞান নেই। নইলে ঘোষাল এমন কাণ্ডটা করতে পারে ? বামুন মানুষ তুই, গলায় তোর পৈতে আছে, সন দেবেলা তুই কিনা এক জেলেমগীর ঘরে-” কৈলাস হয়তো আবার বলে, “সেই যে পাত্রটির সন্ধান পেয়েছিলেন খুকীর জন্যে, কতদূর এগোল প্ৰস্তাবটা ?” অবিনাশের হাতীদাঁত সুড় সুড় করে, কৈলাসের গালে এক ঘা বসিয়ে দিতে, গায়ের কোথাও কামড়ে দিতে। নবীন সরকারের দাওয়ায় বসে হয়তো পাঁচজনে নানা কথা আলাপ করছে। সার্বজনীন দুর্গোৎসবের সেক্রেটারী কিসে সমস্ত টাকা খরচ করে ফেলল যে, সাত টাকা এগার আনা বিপিন মুদ্দীর দোকানো ধার থেকে গেল, সকলে যখন এ সমস্যার কুলকিনারা পাচ্ছে না, কৈলাস হয়তো তখন আপন মনে বকে চলেছে, এ বছর বর্ষা কম হওয়ার ফলটা এ পৰ্য্যন্ত কি দাড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতে কি দাড়াবে। গ্ৰামান্তরে আত্মীয়ের বাড়ী যাওয়ার সময় ভূষণের বিধবা শালীর গর্ভটা ঠিক ক’মাসের হয়েছিল, সকলে যখন এই তর্কে মাসগুল হয়ে আছে, কৈলাস হয়তো তখন কেবলই সকলকে মনে করিয়ে দেবার চেষ্টা করছে যে, বিপিন মুদীর দোকানে দুর্গোৎসবের ধারটা সে এখন ঘরের পয়সা