পাতা:মানিক গ্রন্থাবলী (প্রথম খণ্ড).pdf/৩২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Ry গছাড়া ভাব। কি এল কি গেল, কোথায় কি হচ্ছে, কিচ্ছ, তাকিয়ে দেখে না-খেয়াল নিয়েই আছে নিজের । ভগ্নীপাত চাইলে, দিয়ে দিলে তাকে হাজারখানেক টাকা ধার করে-না একবার জিজ্ঞেস করা, না একটা পরামর্শ চাওয়া ! তাও মেনে নিলাম মামা, ভাবলাম, দিয়ে যখন ফেলেছে আর তো উপায় নেই।-যে মানুষ ওর ভগ্নীপতি ও টাকা ফিরে পাওয়ার আশা নিমাই !-কি আর হবে ? এই সব ভেবে জমানো যে কটা ট কী ছিল,-কি কষ্টে যে টাকা কটা জমিয়েছিলাম মামা, ভাবলে গা এলিয়ে আসে-দিলাম একদিন সবগুলি টাকা হাতে তুলে, বললাম, যাও ধার শুধে এসো, ঋণী হয়ে থেকে কেন ভেবে ভেবে গায়ের রক্ত জল করা ? টাকা নিয়ে সেই যে গেল, ফিরে এল সাদিন পরে। ধারের মনে ধরে রইল, টাকা গুলো দিয়ে বাবু সাদিন ফর্তি করে এলেন। সেই থেকে কেমন যেন দমে গেছি মামা, কোন দিকে উৎসাহ পাইনে। ভাবি, এই মানুষকে নিয়ে তো সংসার, এত যে করি আমি, কি দাম তার, কেন মিথ্যে মরছি খেটে পেটে-সুখ কোথা আদেষ্টে ? মামা সাস্তুনা দিয়া বলে, পুরুষমানুষ। অমন একটু আধটু করে শু্যামা--"নিজেই আবার সব ঠিক করে আনে। আনছে তো বাবু রোজগার করে, বসে তে নেই ! শ্যামা বলে, আমি আছি বলে, আর কেউ হলে এ সংসার কবে ভেসে যেত মামা । মামা একদিন কোথা হইতে শ্যামাকে কুড়িটা টাকা আনিয়া দেয়। শ্যামা বলে, একি মামা ? মামা বলে, রাখি না, রাখ-খরচ করিস। টাকাটা পেলাম, আমি আর কি করব ও দিয়ে ? BBDD DS DD DB BDD D DBBB HD uBg হইল। মামা যদি মাঝে মাঝে এরকম দশাবশটা টাকা আনিয়া দেয়, তবে মন্দ হয় না । মামাকে শ্যামা ভক্তি করে, কাছে রাখিয়া শেষ বয়সে তাহার সেবাযত্ন করার ইচ্ছাটাও আন্তরিক। তবে, তাহার। কিনা টানাটানির সংসার, ইটসুরকি কিনিয়া রাখিয়া টাকার অভাবে সে কিনা দোতলায় ঘর তোলা আরম্ভ করিতে পারে নাই, মেয়ে কিনা তাহার বড় হইতেছে, টাকার কথাটা সে তাই আগে ভাবে কি করিবে সে? তার তো জমিদারি নাই । মামা থাক, হাজার দশ হাজার যদি নাই পাওয়া যায়, মামার জন্য যে বাড়তি খরচ হইবে, অন্তত সেটা আসুক, छामा च्यांद्र किछु 5ाश न । দিন পনের পরে মামা একদিন বর্ধমানে গেল, সেখানে তাহার পরিচিত কোন সাধুর আশ্রম আছে, তার সঙ্গে দেখাe করবে। বলিয়া গেল, দিন তিনেক পরে ফিরিয়া আসিবে । YD S DDDS DD BBE S LBS BDLLE DS এমনি ভাবে ফাকি দিয়া বিদায় লইয়াছে । শীতল ক্ষুন্ন भांनेिक-थंहांदऔ হইল নব চেয়ে বেশি। বন্ধনহীন নির্বান্ধব ভ্ৰাম্যমান লোকটির প্ৰতি সে প্ৰবল একটা আকর্ষণ অনুভব করিতেছিল। মামা যখন যায়, শীতল বাড়ি ছিল না। মামা চলিয়া গিয়াছে শুনিয়া সে বারবার বঢ়ি তে লগা গল, কেন যেতে দিলে ? তোমার ঘটে একফোটা বুদ্ধি নেই, মামার স্বভাব জানো ভাল রে, আটকাতে পারলে না ? বোক, হাদারাম তুমি--মুখুরি একশেষ ! কচি খোকা নাকি ধরে রাখব ? ধরে আবার রাখতে হয় নাকি মানুষকে ? কি বলেছ কি করেছ তুমিই জান, যা ছোট মন তোমার, আত্মীয়স্বজন দুদিন এসে থাকলে খরচের ভয়ে মাথার তোমার টনক নড়ে যায়-ছেলেমেয়ে ছাড়া জগতে “ যেন পোষ্য থাকে ন মানুষের -ছেলে তোমার কি করে দেখে, তোমার কাছেই তো সব শিখছে, তোমার কপালে ঢের দুঃখ उidछ् ! পাগল হলে নাকি তুমি ? কি বকছ ? শীতল যেন কেমন করিয়া শ্যামার দিকে তাকায়। খুব রাগিলে আগে যেমন করিয়া তাকাইত সেরকম নয়।- পাগল আমি হইনি শুমা, হয়েছ তুমি। ছেলে ছেলে করে তুমি এমন হয়ে গেছ, তোমার সঙ্গে মানুষে বাস করতে পারে না,-ছেলে না কচু, সব তোমার টাকার খাকতি, কি করে বড়লোক হবে দিনরাত শুধু তাই ভাবিছ, কারো দিকে তাকাবার তোমার সময় নেই। জন্তুর মত হয়েছ তুমি, তোমার সঙ্গে একদণ্ড কথা কইলে মানষের ঘেন্না জন্মে যায়। এমনি বহী স্বভাব হয়েছে তোমার, লোকে মরুক, বাচুক, তোমার কি ? সময়ে মানুষ টাকা পয়সার কথা ভাবে আবার সময়ে দশজনের দিকে তাকায়, তোমার তা নেই,-আমি বুঝিনে কিছু। টাকার কথা ছাড়া এক মিনিট আমার সঙ্গে অন্য কথা কইতে তোমার গায়ে জর আসে, মন খুলে স্বামীর সঙ্গে মেশার স্বভাব পৰ্যন্ত তোমার ঘুচে গেছে, বসে বসে খালি মতলব আঁটিছ কি করে টাকা জমাবে, বাড়ি তুলবে, ঘর তুলবে, টাকার গদিতে শুয়ে থাকবে : বাজারের বেশ্য মাগীগুলো তোমার চেয়ে ভাল, তার হাসিখুসি জানে, ফ্যুতি করতে জানে : রক্তমাংসের মানুষ তুমি নও, লোভ করার যন্তর ! বাস রে -শীতল এমন করিয়া বলিতে পারে ? সমালোচনা করার পাগলামি এবার তাহার আসিয়াছে নাকি ? এসব সে বলিতেছে-কি ? শ্যামার সঙ্গে মানুষ বাস করিতে পারে না ? মানুষের সঙ্গে অনুভূতির আদান-প্ৰদান সে ভুলিয়া গিয়াছে।--একেবারে ভুলিয়া গিয়াছে ? সে জন্তু, যন্ত্র, বেখ্যার চেয়ে অধম ? কেন, টাকা পয়সা বাড়িঘর সে নিজের জন্য চায় নাকি ! শীতল দেখিতে পায়। না নিজে সে কত কষ্ট করিয়া থাকে, ভাল কাপড়টি পরে না,