পাতা:মানিক গ্রন্থাবলী (প্রথম খণ্ড).pdf/৪৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8 O মানিক-গ্ৰন্থাবলী BDuuD SDDD SBBDD BBS DDDB DL DBBD হইতে শেষ পর্যন্ত তাহদের লক্ষ্য করে। ফুটপাতে যে সব জে।াতিনী বসিয়া থাকে তাদের সঙ্গে মামা আলাপ করে। কোনদিন সে ষ্টেশনে যায়, কোনদিন গঙ্গার ঘাটে, কোনদিন BBB BBB SS BD BB S0YDD DDBB DDDBD DBDuBD DDD দিয়া জীবিকা অজািন করিয়া বেড়ায়, দেখিতে দেখিতে তাদের সঙ্গে মামা ভাবি জমাইয়া ফেলে, সুখ-দুঃখের কত কথা হয় । সাধু নিশ্বাস ফেলিয়া বলে, শহরে যেমন জাকজমক, রোজগারের সুবিধা তেমন নয়, বড় বেয়াড়া শহরের লোকগুলি, মফঃস্বলের যাহারা শহরে আসে। শহরে পা দিয়া তারাও যেন চালাক হইয় ওঠে-নাঃ, শহরে সুখ নাই। মামা বলে, গ্যাট হয়ে বসে থাকলে কি শহরে সাধুর পয়সা আছে দাদা, যাও না শিশিতে জল পুরে ধাতুদৌর্বল্যের ওষুধ বেচ না গিয়ে, যত ফেনা কাটবে মুখে তাত বিক্রি । পথ মামা রোজই হারায়, সে আরেক উপভোগ্য ব্যাপার। পথ জিজ্ঞাসা করিলে কলিকাতার মানুষ এমন মজা করে ! কেউ বিনাবাক্যে গট গট করিয়া চলিয়া যায়, কেউ জলের মত করিয়া পথের নির্দেশটা বুঝাইয়া দিতে চাহিয়া উত্তেজিত অস্থির হইয়া ওঠে। মন্দ লাগে না মামার। শহরের পথও অন্তহীন, শহরের পথেও অফুরন্ত বৈচিত্র্য ছড়ানাে, ঘুরিয়া ঘুরিয়া ক্লাস্তি আসিবে এতবড় ভবঘুরে কে আছে ? প্ৰত্যহ মামা শহরেই কারো বাড়িতে অতিথি হইয়া দুপুরের খাওয়াটা যোগাড় করিবার চেষ্টা কবে, কোনদিন সুবিধা হয় কোনদিন হয় না । বাড়িতে আজকাল খাওয়া দাওয়া তেমন ভাল হয় না, শ্যামা কৃপণ হইয়া পডিয়াছে। কিছু হ’ল মামা ?-শ্যামা জিজ্ঞাসা করে। মামা বলে, হচ্ছে রে হচ্ছে, বলতে বলতে কি আর কিছ হয় ? এদিকে শ্যামার টাকা ফুরাইয়া গিয়াছে। নগদ যা কিছু সে জমাইয়াছিল, ঘর তুলিতে, শীতলের জন্য উকিলের খরচ দিতেই তােহা প্ৰায় নিঃশেষ গুইয়া গিয়াছিল, বাকি টাকায় ফাল্পনি মাস পর্যন্ত খরচ চলিল, তারপর আর কিছুই রহিল। না। বড় দিনের সময় রাখাল আসিয়াছিল, টাকা আসে নাই। ইতিমধ্যে শ্যাম । তাঁহাকে দুখানা চিঠি দিয়াছে, দশ বিশ করিয়া ও শ্যামার পাওনাটা সে কি শোধ করিতে পারে না ? জবাব দিয়াছে মন্দা, লিখিয়াছে, পাওনার কথা কি লিখেছ দীে, উনি যা পেতেন তার চেয়েও কম টাকা নিয়েছিলেন দাদার কাছ থেকে, যাই হোক, তুমি যখন দুরবস্থায় পড়েছ ীে, তোমাকে যথাসাধ্য সাহায্য করা আমাদের উচিত ৰৈ কি, এ মাসে পারব না, সামনের মাসে কিছু টাকা তোমায় পাঠিয়ে দেব। কিছু টাকা, কত টাকা ? কুড়ি। সেদিন বোধ হয়। চৈত্র মাসের সাত তারিখ। বাড়িতে মেছুনি আসিয়াছিল। একপোয়া মাছ রাখিয়া পয়সা আনিতে গিয়া শ্যামা দেখিল দুটি পয়সা মোটে তাহার আছে। বাক্স প্যাটরা হাতড়াইয়া ক” দিন অপ্ৰত্যাশিতভাবে টাকাটা সিকিটা পাওয়া যাইতেছিল, আজও তেমনি কিছু পাওয়া যাইবে শু্যামা করিয়াছিল। এই আশা,-কিন্তু দুটি তামার পয়সা ছাড়া আর কিছুই সে খুজিয়া পাইল না। মাছের দু' আনা দাম মামাই দিল। শ্যামা বলিল, এমন করে আর একটা দিনও তো চলবে না মামা ? একটা কিছু উপায় করা ? দু’চারখানা নোট তুমি নিয়ে এসো সেই টাকা থেকে, তারপর যা কপালে থাকে । হবে । মামা বলিল, টাকা চাই ?--নে না। বাবু দু’পাঁচ টাকা আমারি কাছ থেকে, আমি তো কাঙালি নাই ? বলিয়া মামা দশটা টাকা शुJiभांकि क्लि । মামার তবে টাকা আছে নাকি ? লুকাইয়া রাখিয়াছেন ? শুষ্ঠামা বলিল, দশ টাকায় কি হবে মামা ? চা দিকে অভাব থা খ্যা করছে, কোথায় ঢালাব এ টাকা ? এখনকার শত চালিয়ে নে না, ফুরিয়ে গেলে বলিস। আর ক'টা দাও । খোকার মাইনে, দুধের দামিমামা হাসিয়া বলিল, আর কোথায় পাব ? কিন্তু শ্যামার মনে সন্দেহ ঢুকিয়াছে, কিছু টাকা মামা নিশ্চয় লুকাইয়া রাখিয়াছে, এমনি চুপ করিয়া থাকে, আচল হইলে পাঁচ টাকা দশ টাকা বাহির করে। অবিলম্বে আরও বেশি টাকার প্রয়োজন শ্যামার ছিল না, তব মামার সঙ্গতি আঁচ করিবার জন্য সে পাড়াপাড় করিতে লাগল। মামা শেষে রাগ কারিয়া বলিল, বললাম নেই, বিশ্বাস হ’ল না বুঝি ? দেখগে আমার ব্যাগ খুজে !! ব্যাগ মামার শ্যাম| আগেই খুজিয়াছে । দু'খানা গেরুয়া বসন, একটা গেরুফা আলখাল্লা, কতকগুলি বুদ্রিাক্ষ ও ‘ফুটিকের মালা, কতকগুলি কালো কালো শিকড়, কাঠের একটা কাকুই, টিনের ছোট একটি আরসি আর এমন দুটো চারটে জিনিস মামার সম্বল। পয়সা কড়ি ব্যাগে কিছুই নাই। তবু মামার যে টাকা নাই শ্যামা তাহ পুরাপুরি বিশ্বাস করিতে পারিল th] | দশটা টাকা যে কোথা দিয়া শেষ হইয়া গেল শ্যাম' টেরও পাইল না । মামার কা েহাত পা তিলে৷ এবার মামা সঙ্গে সঙ্গে টাকা বাহির করিয়া দিল না, বকিতে বকিতে বাহির হইয়া গিয়া একবেল পরে আবার দশ টাকার একটা নোট আনিয়া দিল । শু্যামার প্রশ্নের জবাবে বলিল শিষ্য দিয়াছে। চৈত্র মাসের মাঝামাঝি ইংরাজি মাস কাবার হইলে এক দিন সকালে শ্যামা রাণীকে জবাব দিল। রাণীকে সে দু'মাস আগেই ছাড়াইয়া দিতে চাহিয়াছিল, ঝি রাখিবার সামর্থ্য তাহার কে থায় ?-মামার জন্য পারে নাই। মামা বলিয়াছিল, বড় তুই ব্যস্তবাগীশ শ্যামা, এত খরচের মধ্যে একটা