পাতা:মানিক গ্রন্থাবলী (প্রথম খণ্ড).pdf/৫৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


曾a訊 গিয়াছিল। তারপর সে টের পাইয়াছে। যতই রূপ থাক সুপ্রিভার বৃদ্ধি নাই, বড় সে বোকা । পুতুলের মত সে পরের হাতে নড়ে চড়ে, সাহস করিয়া যে তাহার উপর কতৃত্ব করিতে যায়। তারই কর্তৃত্ব স্বীকার করে, একেবারে সে মাটির মানুষ, ঘোরপ্যাচ বোঝে না, নিজের পাওনা গণ্ড বুবিয়া লাইতে জানে না। তবু রাখাল কিনা আজও ছোটবেী বলিতে অজ্ঞান, মনে মনে সকলেই সুপ্ৰভাকে ভয় করে, এ বাড়িতে আদরের তাহার সীমা নাই। সুপ্ৰভা প্ৰভুত্ব করার চেয়ে নির্ভর করিতেই ভালবাসে বেশি, আদর পাওয়াটাই তার জীবনে সব চেয়ে বড় প্রাপ্য। মন্দার গৃহিণীপনার ভিত্তিও ওইখানেই,-সুপ্ৰভাকে সে নয়নেব মণি করিয়া রাখিয়াছে। কে বলিবে সুপ্ৰভা তাহার সতীন ? স্নেহে যত্নে সুপ্ৰভার দিনগুলিকে সে ভরাট করিয়া রাখে, নিজের হাতে সে সুপ্ৰভাকে সাজায়, সুপ্রভার ঘরখানা সাজায়, সুপ্রভার শয্যা রচনা করিয়া দেয়, সতীনের প্রতি স্বামীর গভীর ভালবাসাকে হাসিমুখে গ্ৰহণ করে । সতীনের সংসারেও তাই এখানে কলহ-বিবাদ মানঅভিমান মনকষাকষি নাই। মন্দা ভুলিয়া গিয়াছে সে বধু। এই মূল্য দিয়া সে হইয়াছে গৃহিণী। কলিকাতার চেয়ে ঢের বেশি সুখেই শ্যামা এখানে বাস করিতে লাগিল। পরের বাড়ি পরের আশ্রয়ে থাকিবার একটু যা লজ্জা। এখানে আসিবার আগে শ্যামা ভাবিয়ছিল এমন নিরুপায় হইয়া আত্মীয়ের বাড়ি যাইতেছে, পদে পদে কত অপমান সেখানে না জানি তাহার জুটিবে, এখানে কিছুদিন ভয়ে ভয়ে থাকিবার পর দেখিল গায়ে পড়িয়া অপমান কেহ করে না, সে যে এখানে আশ্রিতা, সময়ে অসময়ে সেটা মনে করাইয়া দিবারও কেহ এখানে নাই, মানাইয়া চলিতে পারিলে এখানে বাস করা কঠিন নয়। এখানকার গ্ৰাম্য আবহাওয়াটিও শ্যামার বেশ লাগিল । শহরতলীর যে বাড়িতে বিবাহের পর হইতে এতকাল সে স্বাস করিয়াছিল। সেখানটা শহরের মত ঘিঞ্জি নয়, তবু সেখানে তাহারা যেন বন্দী-জীবন যাপন করিত, ইটের অরণ্যের মধ্যে প্ৰকৃতির যেটুকু প্ৰকাশ ছিল তা যেন শহরের পার্কের মত ছেলে-ভুলানো ব্যাপার। তাছাড়া, সেখানে তাহারা ছিল কুণো, ঘরের কোণে নিজেদের লইয়া থাকিত, প্ৰতিবেশী থাকিয়াও ছিল না। এখানে জীবনের সঙ্গে জীবনের বড় নিবিড় মেশামিশি। মিতালি যেখানে নাই সেখানেও অজস্র মেলামেশা আছে, সহজ বাস্তব মেলামেশা, শহরের মেলামেশার DDB BDBD D DBD DDSD BB KuB DBS মেয়েরা যেন হাপ ছাড়িয়া বঁচিয়াছে। এখানে তােহাৱা প্ৰকাণ্ড অঙ্গন পাইয়াছে, বাগান পুকুর পাইয়াছে, ধূলামাটিতে খেলা করার সুযোগ পাইয়াছে, আর পাইয়াছে সঙ্গী । * বাড়িতেই শুষ্ঠামার প্রত্যেকটি ছেলেমেয়ের সাখী আছে, বিধানের জন্মের সময় মন্দা যে কোলের ছেলেটিকে লইয়া কলিকাতায় গিয়াছিল তার নাম অজয়, সকলে অজু বলিয়া ডাকে, বিধানের সঙ্গে তাহার খুব ভাব হইয়া গেল। অজয় এক ক্লাশ নিচে পড়ে। পড়াশোনায় বিধান বড় ভাল, মন্দার ছেলেদের মাষ্টার একদিন বিধানকে জিজ্ঞাসাবাদ করিয়া রায় এই দিয়াছেন। মন্দা জানিয়া খুশি হইয়াছে, বিধান কলিকাতার ছেলে বলিয়া অজয়ের সঙ্গে তাহার ঘনিষ্ঠতায় মন্দার যেটুকু ভয় ছিল মাষ্টারের মন্তব্য শোনার পর আর তাহা নাই। সুপ্ৰভা বকুলকে ভালবাসিয়া ফেলিয়াছে। বলে, কি মেয়ে আপনার বৌদিদি, দিয়ে দিন মেয়েটা আমাকে, দেবেন ? বলে, মেয়ে বলে ওকে কিছু শেখাচ্ছেন না, এতো ভাল কথা নয় ? আজিকালিকার দিনে লেখাপড়া গানটান না। জানলে কে নেবে মেয়েকে ? একটু একটু সবি শেখাতে হবে ঠাকুরবি । সুপ্ৰভাই উদ্যোগ করিয়া বকুলকে মেয়েস্কুলে ভতি করিয়া দিল, বলিল, স্কুলের মাহিনী সেই দিবে। গানটান শিখাইবার যখন উপায় নাই, লেখাপড়াই একটু শিখুক । বকুলকে সে যত্ন করে, লুকাইয়া ভাল জিনিস খাইতে দেয়, যে সব জিনিস শুধু মন্দা ও তার ছেলেমেয়ের জন্য বরাদ। কিন্তু এক বকুল ওসব খাইতে চায় না, বলে, দাদাকে দাও, ভাইকে দাও ? সুপ্ৰভা তাতে বড় খুশি হয়। কি নিস্বার্থপর মেয়েটার মন ? যেমন দেখিতে সুন্দর, তেমনি মিষ্টি স্বভাব, ও যেন রাজরাণী হয়। ভগবান । রাজরাণী ? এতবার সুপ্ৰভা এই আশীর্বাদের পুনরাবৃত্তি করে কেন, বকুলকে রাজরাণী করিতে এত তাহার উৎসাহ কিসের ? রাজরাণী হওয়ার সখ ছিল নাকি সুপ্রভার, মনে সেই ক্ষোভ রহিয়া গিয়াছে ? কিছু বুঝিবার উপায় নাই। সুপ্ৰভাকে অসুখী মনে হয় কদাচিৎ। চুপচাপ বসিয়া সে অনেক সময়ই থাকে, সেটা তার স্বভাব, মুখ তাহার সব সময় বিমর্ষ দেখায় না, চোখে তাহার সব সময় ঘনাইয়া আসে না উৎসুক দিবা-স্বপ্নাতুরার দৃষ্টি । তবু K DBS DD DYS BDLL S S BB KS SYK S L0 কি একেবারেই নিজের মূল্য জানে না, কুমারী জীবনে আশা কি সে করে নাই, কল্পনা কি তার ছিল না ? বুড়া বয়সে রাখাল যখন তাহাকে বিবাহ করিয়া তিন পুত্রের জননী সতীনের সংসারে আনিয়াছিল গোপনে সে কি দু’এক বিন্দু অশ্রপাত করে নাই ? বাড়ি ভাড়ার কুড়িটা টাকা নিয়মিত আসে। দু'মাস টাকা পাঠাইয়া কনক একবার শুষ্ঠামাকে একখানা পত্ৰ লিখিল । পাশে কোন বাড়িতে বিদ্যুতের আলো নেওয়া হইতেছে, দেখিয়া কনকের সখ জাগিয়াছে তারও বিদ্যুতের আলো চাই। বাড়িটা তাদের পছন্দ হইয়াছে, স্থায়িভাবে